জসপ্রীত বুমরাহ জীবনী |Jasprit Bumrah Biography in Bengali

জসপ্রীত জসবীরসিংহ বুমরাহ হলেন বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের একজন ক্রিকেটার যিনি জাতীয় দলের হয়ে প্রধানত বোলার হিসাবে খেলেন এবং টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অধিনায়কত্বও করেছেন। তিনি হলেন একজন ডানহাতি ফাস্ট বোলার, আর তাঁর এই বোলিং পারফরমেন্সের জন্য ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক দুই স্তরেই তিনি বিশেষ প্রশংসিত।

বুমরাহ ঘরোয়া ক্রিকেটে গুজরাটের হয়ে এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলেন। বুমরাহ ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও ছিলেন। তিনিই প্রথম বোলার যিনি ক্রিকেটের তিনটি ফর্ম্যাটেই আইসিসি পুরুষ খেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর স্থান অর্জন করেছেন।

এই রকম বিশেষ বিশেষ অর্জন তাঁর ঝুলিতে অনেক রয়েছে। এক সাধারন পাঞ্জাবি পরিবারে জন্মগ্রহন করে নিজেকে ভারতীয় দলের সেরা বোলার রুপে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন পূরণ করার রাস্তা তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। যেখানে সবাই স্বপ্ন দেখে সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার সেখানে তিনি ছিলেন বাতিক্রমি,আর সবচেয়ে বাতিক্রমি ছিল তাঁর বল করার ধরন।

এই বিশেষ স্টাইলে বল করার জন্যই তিনি বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন। চলুন আজ ভারতীয় জনপ্রিয় ক্রিকেটার জসপ্রীত বুমরাহ এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী (Jasprit Bumrah Biography in Bengali) আলোচনা করা যাক। 

আরো পড়ুন : সৌরভ গাঙ্গুলি জীবনী

জসপ্রীত বুমরাহ জীবনী |Jasprit Bumrah Biography in Bengali

জন্ম, পরিবার ও ছোটবেলা

জসপ্রীত বুমরাহ ১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি শিখ পাঞ্জাবি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা জসবীর সিং রাসায়নিক-এর ব্যবসা করতেন, আর তাঁর মা দলজিৎ বুমরাহ স্কুল শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। বুমরাহ-এর যখন ৫ বছর বয়স তখন তাঁর বাবা হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মা তাকে এবং তাঁর বোন জুহিকাকে আহমেদাবাদের একটি মধ্যবিত্ত পরিবেশে বড় করেছেন। বুমরাহ আহমেদাবাদের বস্ত্রপুরের নির্মাণ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে তাঁর মা উপাধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করতেন। তিনি নির্মাণ দলের হয়ে ক্রিকেটও খেলতেন। ছোটবেলায় বাড়িতে সারাদিন তিনি বল নিয়ে খেলা করতেন। বলের আওয়াজে তাঁর মায়ের ঘুমের ব্যাঘাত যাতে না ঘটে তাই তাঁর লক্ষ্য ছিল দেয়াল ও মাটির মাঝখানের চত্বরে বল করা। এ থেকে ইয়র্কার বল হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার সুবাদে তিনি সারা বিশ্বে প্রশংসা পেয়েছেন। 

আরো পড়ুন : অবশেষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা, ঘোচালো `চোকার্স’ ট্যাগ!!

শুরুর সময় এবং ঘরোয়া ক্রিকেট

জসপ্রীত বুমরাহ ২০১০ সালে গুজরাট অনূর্ধ্ব-১৯ ট্রায়ালের সময় তাঁর ক্রিকেট যাত্রা শুরু করেন, যেখানে তাঁর অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের কারণে প্রাথমিকভাবে তাকে মূল দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু পরে তিনি সাত উইকেট নিয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন।

২০১২-১৩ সালে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে গুজরাটের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর অভিষেক হয় এবং ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার অর্জন করেন, যা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কোচ জন রাইটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বুমরাহ ২০১৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করেন, বিদর্ভের বিরুদ্ধে তিনি সাত উইকেটও নেন।

২০১৫-১৬ বিজয় হাজারে ট্রফিতে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে তাঁকে তদন্তের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, তিনি তা কাটিয়ে ওঠেন এবং গুজরাটের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে ফাইনালে পাঁচ উইকেট শিকারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২০ সালে, তিনি অস্ট্রেলিয়া এ-এর বিরুদ্ধে তিনি তাঁর প্রথম প্রথম-শ্রেণীর অর্ধশতক করেন।

আরো পড়ুন : মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

জসপ্রীত বুমরাহ ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন, অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে ওয়ানডে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রাথমিক পারফর্মেন্স-এ মুগ্ধ করেন। তিনি তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটটি স্টিভ স্মিথের বিপক্ষে নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি ভারতের শীর্ষ উইকেট শিকারী ছিলেন। ২০১৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ভারতের ১৫ সদস্যের দলে স্থান পান। এই সিরিজে জসপ্রীত বুমরাহ-এর পারফরমেন্স ভালো থাকা স্বাত্তেও সিরিজটি ভারত হেরে যায়। ২০১৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে তিনি শক্তিশালী প্রভাব ফেলেন, এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক উইকেট শিকারের নতুন টি-টোয়েন্টি রেকর্ড স্থাপন করেন। ২০১৭ সালে, তিনি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ করেন এবং ভুবনেশ্বর কুমারের পর ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে স্বীকৃতি পান। ওই বছরই ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে সর্বাধিক উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন।

বুমরাহ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক করেন। ২০১৮ সালের জুনে, ভারতের আয়ারল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচে, ক্যাচ ধরার চেষ্টা করার সময় বুমরাহ তাঁর বাম হাতের বুড়ো আঙুল ভেঙে ফেলেন। এই আঘাতের কারণে তিনি সফরের বাকি অংশ এবং ২০১৮ সালের পতৌদি ট্রফির প্রথম দুটি টেস্ট ম্যাচ মিস করেন। ২০১৮ সালের শেষে বুমরাহ একই ক্যালেন্ডার বছরে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঁচ উইকেট শিকারকারী প্রথম এশিয়ান বোলার হন।

টেস্ট ক্রিকেটের অভিষেক বছরেই তিনি একজন ভারতীয় বোলারের রেকর্ড স্থাপন করেন। ২০১৮ সালে শেষ পর্যন্ত তিনি ভারতের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারী হিসেবেই শেষ করেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে, বুমরাহ ১৮টি উইকেট নিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন এবং তাঁর ১০০তম ওয়ানডে উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি করেন। মোহাম্মদ শামির পর তিনিই ছিলেন দ্রুততম ভারতীয় উইকেট সংগ্রহক। সিরিজের সেমিফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায়।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, পিঠের নিচের অংশে স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত সফর থেকে বুমরাহকে বাদ দেওয়া হয়।

২০২০ সালে, তাকে আইসিসির দশকের (২০১১-২০২০ সালের জন্য) সেরা টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় দের দলে স্থান দেওয়া হয়েছিল। আঘাত সত্ত্বেও, তিনি ভারতের ২০২১ সালের টেস্ট জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে ভারতের স্থায়ী অধিনায়ক হন, যেখানে তিনি টেস্টে এক ওভারে সর্বাধিক রানের বিশ্ব রেকর্ডও তৈরি করেছিলেন। একই বছরে, তাকে উইজডেন ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল এবং আইসিসির ওডিআই র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর স্থান অর্জন করেছিলেন।

২০২৩ সালে পিঠের অস্ত্রোপচারের পর, বুমরাহ আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসেন এবং সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ এবং ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, ২০টি উইকেট নিয়ে সিরিজ শেষ করেন।

২০২৪ সালে, বুমরাহ সকল ফর্ম্যাটে ১ নম্বর র‍্যাঙ্কিং প্রাপ্ত প্রথম ভারতীয় বোলার হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, এবং এই টুর্নামেন্টে ভারত জিতেছিল। তিনি ৪০০ আন্তর্জাতিক উইকেট, ২০০ টেস্ট উইকেট এবং বিদেশের টেস্ট সিরিজে একজন ভারতীয় হিসেবে সর্বাধিক উইকেট (৩২) নেওয়ার রেকর্ড গড়েন, যা ভারতের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে তাঁর মর্যাদাকে সুদৃঢ় করে।

আরো পড়ুন : সাই সুদর্শন জীবনী

আইপিএল ক্যারিয়ার

জসপ্রীত বুমরাহ ২০১৩ সালে “মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (এমআই)” দিয়ে তাঁর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির সময় তৎকালীন কোচ জন রাইট তাঁর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিমে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তারপর থেকে, তিনি এমআই-এর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের পাঁচটি আইপিএল শিরোপা (২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ এবং ২০২০) জিততে সাহায্য করেছেন।

১৩৮ আইপিএল  ম্যাচে তিনি ১৭০ উইকেট নিয়েছেন, লাসিথ মালিঙ্গার সাথে এমআই-এর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর রেকর্ড ও ভাগাভাগি করেছেন। বুমরাহ ১৯ বছর বয়সে আইপিএলে অভিষেক করেন, আরসিবির বিরুদ্ধে ৩/৩২ নিয়ে, যার মধ্যে বিরাট কোহলির উইকেটও ছিল। ২০১৬ সালে, তিনি এমআই-এর হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে, তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করেন এবং “প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ পুরষ্কার” অর্জন করেন।

শচীন তেন্ডুলকরের মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে তিনি উচ্চ প্রশংসা পান। ২০১৯ সালে তিনি ১৯ উইকেট নিয়ে এমআইকে আবার ট্রফি জিততে সাহায্য করেন। ২০২০ সালে আইপিএল এ তিনি ২৭ উইকেট নিয়েছিলেন এবং সামগ্রিক টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন, সর্বোপরি এমআইকে আরেকটি শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে, বুমরাহ ২১ উইকেট নিয়ে তাঁর আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন, তারপরে ২০২২ সালে ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন, যার মধ্যে কেকেআরের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের সেরা ৫/১০ ছিল।

পিঠের আঘাতের কারণে তিনি ২০২৩ মৌসুম মিস করেছিলেন। ২০২৪ সালে, তিনি খেলার মাঠে আবার ফিরে আসেন এবং ২০ টি উইকেট নেন, যার মধ্যে ছিল তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট (আরসিবির বিপক্ষে ৫/২১) এবং তাঁর ১৫০তম আইপিএল উইকেট এর রেকর্ড। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স -এর সাথে বুমরাহর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যারিয়ার ধারাবাহিকতা, বড় ম্যাচে ক্লাচ পারফর্মেন্স এবং আইপিএল ইতিহাসের সেরা বোলারদের একজন হিসেবে তাঁর উত্তরাধিকারের জন্যই সকলের কাছে পরিচিত।

আরো পড়ুন : শুভমান গিল জীবনী

বুমরাহর বোলিং স্টাইল

জসপ্রীত বুমরাহ তাঁর অনন্য বোলিং অ্যাকশন-এর জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাঁর শক্ত হাতের বল ডেলিভারি এবং হাইপারএক্সটেন্ডেড কনুই-এর জন্য তিনি বলটি ব্যাটসম্যানের কাছাকাছি ছেড়ে দিতে পারেন, অতিরিক্ত গতির জন্য বলটি একটি ভ্রম তৈরি করে। তার অপ্রচলিত বল কৌশল, যদিও অপ্রচলিত, অত্যন্ত কার্যকর এবং ব্যাটসম্যানদের জন্য তাকে বুঝতে অসুবিধাকর করে তোলে। তিনি ধারাবাহিকভাবে গড় গতি ১৪২ কিমি/ঘন্টা বেগে বল করেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর দ্রুততম বলের গতিবেগ ১৫৩ কিমি/ঘন্টা। বুমরাহ পাওয়ারপ্লে এবং ডেথ ওভারে এ বিশেষজ্ঞ।

ইয়র্কার, শর্ট বল এবং অফ-স্টাম্পের বাইরে ডেলিভারির মিশ্রণ ব্যবহার করে তিনি বল করেন। তিনি রিভার্স সুইং তৈরি করে ও ম্যাগনাস এফেক্ট ব্যবহার করে ব্যাকস্পিনের সাহায্যে বলকে লিফট করে, এবং উভয় দিকেই বল সুইং করতে পারেন। ডেনিস লিলি এবং শচীন টেন্ডুলকারের মতো প্রাক্তন কিংবদন্তিরা তাঁর দক্ষতা এবং স্বতন্ত্রতার প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে বুমরাহ নিজেই তাঁর নৈপুণ্য গঠনে মালিঙ্গা, ওয়াসিম আকরাম, ব্রেট লি এবং মিচেল জনসন এর মতো খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করেছেন।

বাক্তিগত জীবন

২০২১ সালের ১৫ মার্চ, বুমরাহ গোয়ায় মডেল এবং উপস্থাপিকা সঞ্জনা গণেশনকে বিয়ে করেন। মহারাষ্ট্রের পুনের বাসিন্দা, সঞ্জনা একজন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ফাইনালিস্ট এবং ২০১৪ সালে এমটিভির স্প্লিটসভিলায় অংশগ্রহণকারীও ছিলেন। বুমরাহ এবং সঞ্জনার প্রথম দেখা হয় ২০১৩ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সময় একটি সাক্ষাৎকারে। সেই প্রথম সাক্ষাতের পর তাঁরা বন্ধু হয়ে ওঠে এবং দুই বছর প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর, তারা ২০২১ সালে বিয়ে করে। ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, তাদের ছেলে অঙ্গদের জন্ম হয়। 

সোশ্যাল মিডিয়া তে জসপ্রীত বুমরাহ বিশেষ জনপ্রিয়। ফোর্বস ইন্ডিয়ার মতে, ২০২৩ সালের আগস্টে সোশ্যাল মিডিয়ায় বুমরাহর প্রায় ২.৫ কোটি ফলোয়ার ছিল, যার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটিরও বেশি ফলোয়ার ছিল, যা বিশ্বের অন্যান্য বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার।

আরো পড়ুন : সূর্যকুমার যাদব জীবনী

রেকর্ড

১। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম ভারতীয় ফাস্ট বোলার।

২। একবিংশ শতাব্দীতে (২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) টেস্ট হ্যাটট্রিক করা প্রথম ভারতীয়।

৩। ভারতীয় পেসারের সেরা ওয়ানডে বোলিং পরিসংখ্যান – ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬/১৯।

৪। একাধিকবার আইসিসি ওয়ানডে বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বর স্থানে পৌঁছেছেন।

৫। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ১৭০ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী (লাসিথ মালিঙ্গার সাথে সমান)

৬। সেরা আইপিএল বোলিং পরিসংখ্যান – ২০২২ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৫/১০।

৭। দ্রুততম ১০০ ওয়ানডে উইকেট পাওয়া ভারতীয় বোলার (৫৭ ম্যাচে)

৮। সমস্ত টেস্ট খেলুড়ে মহাদেশে ৫ উইকেট শিকারী কয়েকজন বোলারের মধ্যে তিনি একজন।

৯। ২০২৪ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে তার ১৫০তম আইপিএল উইকেট নিয়েছিলেন।

১০। ১৫৩ কিমি/ঘন্টা সর্বোচ্চ গতিতে বল করেছিলেন, যা একজন ভারতীয় বোলারের দ্রুততম গতিগুলির মধ্যে একটি।

পুরষ্কার

১। আইসিসির পুরুষদের বর্ষসেরা ওয়ানডে দল – একাধিকবার নির্বাচিত (বিশেষ করে ২০১৭, ২০১৮ সালে)।

২। আইসিসির পুরুষদের বর্ষসেরা টেস্ট দল – অসাধারণ টেস্ট পারফরম্যান্সের জন্য স্বীকৃত।

৩। পলি উমরিগর পুরষ্কার ২০১৮-১৯ – ভারতের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে বিসিসিআই কর্তৃক প্রদত্ত।

৪। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ/সিরিজ পুরষ্কার – ম্যাচ জয়ী পারফরম্যান্সের জন্য টেস্ট এবং সীমিত ওভার উভয় ফর্ম্যাটেই বেশ কয়েকটি অর্জন করেছেন।

৯। আইসিসির মাসের সেরা খেলোয়াড় (আগস্ট ২০২৩) – আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তার ব্যতিক্রমী বোলিংয়ের জন্য।

১০। পদ্মশ্রী (২০২৪) – ক্রিকেটে তার অবদানের জন্য ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার।

বিতর্ক

১। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে নো-বল বিতর্ক: বুমরাহ একটি নো-বল করেছিলেন যা ফখর জামানকে তাড়াতাড়ি আউট করেছিল। কিন্তু ব্যাটসম্যান আউট না হওয়ায় ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই মুহূর্তটি সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সমালোচনা এবং মিমের জন্ম দেয়।

২। ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ এবং কাজের চাপ নিয়ে প্রশ্ন (২০২২-২০২৩): তার বারবার আঘাত এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অনুপস্থিতি তাঁর ফিটনেস এবং বিসিসিআইয়ের কাজের চাপের ব্যবস্থাপনার কৌশল নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। কিছু ভক্ত প্রশ্ন তোলেন যে আইপিএল ও জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাইরে রাখা হয়েছিল কিনা।

৩। মিডিয়া জল্পনা-কল্পনার সাথে সংঘর্ষ: বুমরাহ মাঝে মাঝে তার আঘাত বা ফিরে আসার তারিখ সম্পর্কে মিডিয়া গুজবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন এবং জল্পনার সমালোচনা করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, মাঠ এবং মাঠের বাইরে এই কিছু ন্যূনতম বিতর্কের সাথে বুমরাহ একটি পরিষ্কার ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন।

মোট উইকেট

টেস্ট উইকেট: ১৫৯+

ওয়ানডে উইকেট: ১৪৯+

টি২০আই উইকেট: ৭৪+

মোট আন্তর্জাতিক উইকেট: ৩৮০+

আর্থিক প্রতিপত্তি

২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, জসপ্রীত বুমরাহর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ₹৫৫-৬০ কোটি। বিসিসিআই-এর সাথে চুক্তি থেকে তিনি বার্ষিক ₹৭ কোটি আয় করেন, সাথে ম্যাচ ফি এবং ওয়ানপ্লাস এবং ড্রিম১১ এর মতো প্রধান ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকে ও টাকা পান।

আইপিএলে, ২০২৫ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাঁকে ১৮ কোটি টাকায় ধরে রাখে, যার ফলে আইপিএল ক্যারিয়ারে তার মোট আয় ৮৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। মুম্বাই এবং আহমেদাবাদে তাঁর বিলাসবহুল সম্পত্তির মূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি এবং মার্সিডিজ-মেবাখ, নিসান জিটি-আর এবং রেঞ্জ রোভার সহ প্রিমিয়াম গাড়ির সংগ্রহও তাঁর রয়েছে। তাঁর মোট বার্ষিক আয় আনুমানিক ₹২৫ কোটি টাকারও বেশি।

FAQ: Jasprit Bumrah Biography in Bengali

১। জসপ্রীত বুমরাহ কে?

জসপ্রীত বুমরাহ একজন ভারতীয় ক্রিকেটার। তিনি তাঁর বিশেষ বোলিং স্টাইল এর জন্য পরিচিত।

২। জসপ্রীত বুমরাহর জন্ম কোথায় হয়?

জসপ্রীত বুমরাহ ১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি শিখ পাঞ্জাবি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 

৩। জসপ্রীত বুমরাহর পিতার নাম কী?

জসবীর সিং, তিনি একজন রাসায়নিক ব্যবসায়ী ছিলেন।

৪। জসপ্রীত বুমরাহর সেঞ্চুরি সংখ্যা কত?

এখনও পর্যন্ত জসপ্রীত বুমরাহ কোন সেঞ্চুরি করেন নি। কারন তিনি ভারতীয় দলে বোলার হিসাবে খেলেন। তিনি ৩৮০ টির ও বেশি আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন। 

৫। জসপ্রীত বুমরাহর স্ত্রীর নাম কী?

জসপ্রীত বুমরাহর -এর স্ত্রীর নাম সঞ্জনা গণেশন। 

Leave a Comment