About Us

নমস্কার আমার প্রিয় ভাইবোনেরা। আমার নাম শুভম বিশ্বাস। আমার বর্তমান পেশা এই লেখালেখি করা অর্থাৎ ব্লগিং এবং আমার প্যাশন বা বলা ভালো যেটা করে আমি নিজে ভীষণ খুশি থাকি তা হলো ফিল্মমেকিং বা ভিডিও বানাতে। আমার দারুন ইচ্ছে করে একটা সিনেমা বানাতে।

SUVAM-BISWAS-FAVICON

এই ব্লগ বানানোর পেছনে একটা গল্প আছে, শুনবেন?

আমি ছোটবেলা থেকেই খুবই লাজুক। আমি খুব কমই বাইরে যাই এবং মানুষের সাথে কম কথা বলি।

আমি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা পছন্দ করতাম, এখনো সময় পেলে কিছু বই পড়ি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি খুব ভালো ছাত্র ছিলাম। আমাদের ছোটবেলায় সামাজিক মাধ্যম অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্টারনেট এইসব কিছু ছিল না। ফলে আমি আমার বেশিরভাগ সময় টিভি দেখেই কাটাতাম।

সেই সময়, সিনেমার অভিনেতারা বিভিন্ন টিভি’শো তে এসে সাক্ষাৎকার দিতেন, যা আমার খুবই ভালো লাগত। তখন তাদের সাথে যোগাযোগ করার একটি উপায় ছিল, টিভি’শো তে সরাসরি কল করে বা পরবর্তী শো এর আগে তাদের চিঠি লিখে। ক্লাস ৭-৮ এ পড়ার সময় থেকেই আমি বিভিন্ন টিভি’শো তে চিঠি লেখা শুরু করি। আমি কখনও সাহস করে তা পাঠাতে পারিনি, তবে সেখান থেকেই লেখালেখির প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়ে যায়।

আমি বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছি, তাই ছোটবেলা থেকেই আমার ইংরেজি তেমন ভালো ছিল না। কিন্তু ঈশ্বরের আশীর্বাদে, আমি বাংলা বেশ ভালো লিখতে পারি। আর যখন কন্টেন্ট লেখায় সমস্যা হয়, তখন বাংলায় লিখি এবং তারপর ইংরেজিতে অনুবাদ করি। এতে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে, গুগল ট্রান্সলেট, যদিও এখন এটার ব্যবহার আর তেমন করি না।

আমার জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তর্গত। মাধ্যমিক শিক্ষার পরে আমাদের মধ্যে থেকে আর্টস, বিজ্ঞান, বাণিজ্য এর মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়। আমি দশম শ্রেণির পরে বিজ্ঞান পড়া শুরু করি। গণিতে অনার্স নিয়ে স্নাতক হওয়ার পরে, এখন আমি ব্লগিং, ইউটিউব এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছি।

এমন নয় যে আমি কয়েক দিনের মধ্যেই ব্লগিংতে সফল হয়েছি। আমি ২০১৯ সালে ব্লগিং শুরু করি এবং ৬ মাস কাজ করার পরে, আমার প্রথম আয় ব্লগিং থেকে আসে। তারপর থেকে আমি আর পিছনে ফিরে তাকাইনি। এটাই আমার জীবন কাহিনী।

আসলে এইটা আমার জীবনের কিছু মাস আগে অবধি কাহিনী, অর্থাৎ এই ব্লগ আর ইউটিউব চ্যানেল বানানোর আগের কাহিনি। এখন কাহানিতে একটু টুইস্ট আছে। সেটা একটু বলি।

আসলে যখন ছোট ছিলাম মানে খুব ছোট না, এই কলেজ পাশ করার পর আমার কেবল মনে হতো কিছু একটা কাজ করি এবং বাবা মা এর একটু সাহায্য করি। সত্যি কথা বলতে সেইসময় আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না।

আমিও চেয়েছিলাম একটা সরকারি চাকরি করতে। সেই সময় টিউশন পড়াতাম আর চেষ্টা করতাম যাতে মাসে আমার ৫০০০ থেকে ১০০০০ টাকা রোজগার হয় যাতে আমি বাড়ির সাহায্য করতে পারি এবং সরকারি চাকরি পাবার জন্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি। কিন্তু হলো ঠিক এর উল্টো।

কোভিড এলো, লকডাউন হলো আর সবাই বাড়িতে বসে গেলাম। সেই সময় আমার শুরু করা একটা ব্লগ চরম সফল হলো এবং আমিও ব্লগিং থেকে অনেক টাকা রোজগার করতে লাগলাম। তারপর যা হয় আর কি, একবার টাকার গন্ধ পেলে কি আর কেও ছাড়তে পারে? আমিও পারি নি। ভুলে গেলাম পড়শোনা, লেগে থাকলাম শুধু টাকা রোজগার এর দিকে। নিজের রোজগার দিয়ে বাড়ি, গাড়ি সব করলাম।

কিন্তু তবুও কোথাও যেন একটা শান্তি অবশিষ্ট ছিল। সেই তৃপ্তি, মনের মধ্যে সফলতার আনন্দ, খুশি থাকা এগুলো যেনো জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছিলো। আসলে আমাকে যখনি কেও জিজ্ঞেস করতো আমি কি করছি, আমিও ঠিক বলতে পারতাম না, আর আমার বাবা মা ও বলতে পারতো না। গ্রাম বাংলাতে থাকি তো। তাই সরকারি চাকরি পাওয়াটাই জীবনের একমাত্র সফলতা ধরে নেওয়া হয়।

এখন কি হয়েছে, বিভিন্ন কারণে ব্লগিং আগের মতন আর নেয়। আগে যেরকম একটা ব্লগ লিখতাম আর সেটা গুগলে দেখতে লাগতো, রোজগার হতো। এখন বিষয়টা সেরকম আর নেই। এখন একটা ব্লগ লেখার আগে অনেক ভাবতে হয়, ব্লগ লেখার পড়েও অনেক কিছু করতে হয়। তাও যে সেই ব্লগ থেকে টাকা রোজগার হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি যেটুকু লক্ষ্য করেছি এখন কেও ব্লগিং করে সফলতা পেতে চাইলে তাকে হাজার রকমের লেখা না লিখে নির্দিষ্ট এক ধরণের লেখা লিখতে হবে। এছাড়াও আঞ্চলিক ভাষার ব্লগ হয়তো এবার একটু প্রাধান্য বেশি পাবে।

আমারও বহুদিনের ইচ্ছে ছিল বাংলাতে ব্লগ লেখার। চেষ্টাও করেছি অনেকবার। কিন্তু তখন সময়ের অভাবেই হোক আর গুগল এর কারণে, বাংলা ব্লগ চলতো না। অন্যদের চললেও আমার চলতো না। কি জানি এখন কি হয়েছে, আমার নতুন বাংলা ইউটিউব চ্যানেল এবং এই ব্লগে যা লিখছি তাই মোটামুটি চলছে। সেকারণে আমি স্থির করেছি এই ব্লগে এবং আমার বাংলা ইউটিউব চ্যানেলে আমি বাংলায় ক্রিকেট নিয়ে কনটেন্ট বানাবো। আমি আশাবাদী আমার এইবারের প্রচেষ্টায় আপনাদের সকলকে আমি পাশে পাবো।

আমার ইউটিউব চ্যানেলের নাম – (Suvam Biswas)

ধন্যবাদ। জয় মা দুর্গা। ভালো থাকবেন সবাই।

Founder & CEO: Suvam Biswas (IG: @suvambiswas_)