RCB vs SRH IPL 2025: এবছরের আইপিএলের প্রথম থেকেই ভালো প্রদর্শন করে চলেছিল রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু। নিজস্ব ঘরের মাঠে হার দেখলেও, বাইরের মাঠে পর পর জয়ের হ্যাটট্রিক করে ব্যাঙ্গালুরু। সুতরাং এবছরের প্রথম দিক থেকেই ব্যাঙ্গালুরু যেনো প্লে-অফের স্বপ্ন দেখছিল। সেই স্বপ্ন ইতিমধ্যে পূরণ ও হয়েছে বটে কিন্তু তারপর পয়েন্টস টেবিলে কোন স্থানে শেষ করবে ব্যাঙ্গালুরু সেই নিতেই চলছিল জোর কদমে প্রস্তুতি।
তাদের হাতে বাকি ছিল আর মাত্র দুটি ম্যাচ একটি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এর বিপক্ষে এবং অন্যটি লখনউ সুপার জায়েন্টের বিপক্ষে। গতকাল অর্থাৎ ২৩ শে মে সন্ধ্যে ৭:৩০টায় উত্তরপ্রদেশের একনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ম্যাচটি। যদিও এই ম্যাচটি ছিল ব্যাঙ্গালুরুর নিজস্ব ঘরের মাঠে, কিন্তু আগের কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিল। সুতরাং আইপিয়েলের কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ্গালুরুর আবহাওয়াকে মাথায় রেখে তাদের পরবর্তী ম্যাচটি ব্যাঙ্গালুরু থেকে উত্তরপ্রদেশের একনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্থানান্তরিত করে।
বর্তমানে আইপিএল ২০২৫ এ প্লে-অফে খেলার জন্য কোয়ালিফাই করেছে ৪টি দল, যথা- গুজরাট টাইটানস, রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু, পাঞ্জাব কিংস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এখন শুধুমাত্র দেখার বিষয় যে বাকি ম্যাচগুলো হওয়ার পর কোন দল পয়েন্টস টেবিলের কত নম্বরে শেষ করে। যদিও গুজরাট টাইটানস আগের ম্যাচে লখনউ সুপার জায়েন্টের কাছে হেরে যায়, ফলে তারা এখনো ১৮ পয়েন্টসেই রয়েছে। কাজেই তাদের সামনে পড়ে রয়েছে আর মাত্র একটি ম্যাচ। অপরদিকে পাঞ্জাব কিংসের কাছে আরো ২টি ম্যাচ বাকি রয়েছে, তারা যদি সেই দুটি ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে তাদের পয়েন্টস গিয়ে দাঁড়াবে ২১এ। সুতরাং পাঞ্জাব কিংস পয়েন্টস টেবিলের একেবারে শীর্ষ স্থানে পৌঁছে যাবেন।
এমন অবস্থায় সকলেরই নজরে ছিল গতকালের রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু (RCB) বনাম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) ম্যাচটি। কারণ ব্যাঙ্গালুরুর কাছেও সুযোগ ছিল পয়েন্টস টেবিলের একেবারে শীর্ষ স্থানে পৌঁছে যাবার। যাই হোক গতকাল টসে জিতে রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু প্রথম বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও গতকালের ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে অধিনায়কত্ব করতে দেখা যায় জীতেশ শর্মাকে। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমেই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও ট্রাভিশ হেড বরাবরের মতোই বিধ্বংসী ভাবে খেলতে শুরু করেন। যদিও খুব শীঘ্রই ব্যাঙ্গালুরুর দুই প্রেসার, লুঙ্গি এনগিডি ও ভুবনেশ্বর কুমার এই দুই ওপেনারকে আউট করে দেন। তবুও অভিষেক শর্মা ১৭ বলে ৩৪ রানের একটি দারুন ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন।
এরপরে মাঠে নামেন ভারতের বাঁহাতি ব্যাটার ইশান কিষান, তিনি প্রথম দিকে সামলে খেলতে শুরু করেন। এর পরই একের পর এক বাউন্ডারি মারতে থাকেন তিনি। অপরদিকে থেকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের একটি করে উইকেটের পতন হতে থাকে। সব শেষে ইশান কিষান নট আউট থেকে ৪৮ বলে ৯৪ রানের একটি অনবদ্য ইংগিস খেলে যান, যেখানে তিনি ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন। ২০ ওভারের শেষে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের স্কোর গিয়ে দাড়ায় ২৩১ রানে এবং ৬ উইকেটের পতন। অর্থাৎ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ বেঙ্গালুরুকে একটি বড় রানের টার্গেট দিতে সক্ষম হয়।
হায়দ্রাবাদের দেওয়া ২৩২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামেন ব্যাঙ্গালুরুর দুই ওপেনার বিরাট কোহলি এবং ফিল সল্ট। যদিও শুরুর দিকে সেভাবে শর্ট মারতে দেখা যায় নি এই দুই ব্যাটার কে। কিন্তু সেট হওয়ার পর থেকে তারা দুজনে মিলে মারতে থাকেন একের পর এক বাউন্ডারি। দুইজনে মিলে ৮০ রানের পার্টনারশিপ করে ফেলেন। হায়দ্রাবাদের বোলার হর্শ দুবের বলে বিরাট কোহলি বড় শর্ট খেলতে গিয়ে অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান। এরপর ব্যাটিং করতে আসেন রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুতে সদ্য যোগ দেওয়া মায়ঙ্ক আগরওয়াল। কিন্তু খুব শীঘ্রই তিনি নীতিশ কুমার রেড্ডির বলে আউট হয়ে ফিরে যান। তারপর ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে ব্যাঙ্গালুরু খেলতে নামান রজত পতিদারকে, অপরদিকে ফিল সল্ট ৩২ বলে ৬২ রান করে আউট হয়ে যান, যেখানে তিনি মোট ৪টি চার ও ৫টি ছক্কা হাকিয়েছে।
আরো পড়ুন : এবারের আইপিএলে পার্পেল ক্যাপের লিডারবোর্ডে রয়েছেন কোন কোন প্লেয়ার?
এরপরই যেনো ধীরে ধীরে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে গেলেন রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুরা। রান আউট হয়ে ফিরতে হলো রজত পাতিদারকে। আস্কিং রান রেট অধিক হয়ে যাওয়ায় জিতেস শর্মা বড় শর্ট মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হলেন। এরপর একে একে রোমারিও সেপার্ড, কুণাল পাণ্ডেয়া, টিম ডেভিড একের পর এক ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে ফিরে গেলেন ড্রেসিং রুমের দিকে। এই সময়ে রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে খুইয়েছে ৩টি উইকেট। এই ম্যাচের টারনিং পয়েন্ট যদি কোনো মুহূর্তকে বলা হয়, তাহলে এই মুহূর্তটিকেই বলা চলে। ১৭৩ রানে ৩ উইকেটের পতনে দাঁড়িয়ে ছিল রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু, সেখান থেকে ১৮৯ রানে অল উইকেট হয়ে যায় তাদের। সুতরাং এক্ষেত্রে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলারদেরই ক্রেডিট দিতে হয়। ১৯.৫ ওভারে ব্যাঙ্গালুরু ১৮৯ রানের অল আউট হয়ে যায়, যার ফলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৪২ রানের ব্যবধানে আজকের ম্যাচটি জিতে যায়।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) বনাম রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর (RCB) স্কোরকার্ড
| টিমের নাম | রান / উইকেট | ওভার |
| SRH | ২৩১/৬ | ২০ |
| RCB | ১৮৯/১০ | ১৯.৫ |
আজকের ম্যাচের টারনিং পয়েন্ট কোথায়? তাছাড়া প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচ ব্যাঙ্গালুরু কিভাবে হেরে গেলো, তা নিয়ে আপনাদের মতামত কমেন্ট করে আমাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন। আর এধরনের ক্রিকেট সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য, খবরের জন্য আমাদের আজকেরআলোচনা ওয়েবসাইটটিতে চোখ রাখুন।
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। ক্রিকেট নিয়ে ভালোবাসা আমার ছোটবেলা থেকেই। ২০২৫ এর মে মাস থেকে আমি এই ব্লগে অন্যতম ক্রিকেট রাইটার হিসেবে যুক্ত হয়েছি।