এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এর সুবিধা

নমস্কার বন্ধুরা, আমার নাম শুভম বিশ্বাস, আমি পেশায় একজন ব্লগার এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং আমার প্রধান রোজগারের মাধ্যম। এই বাংলা ব্লগটি আমি খুলেছি মূলত বাংলা ভাষায় আমার জানা সমস্ত কিছু আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে। আজ এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমি বলবো এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং মোবাইল দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা রোজগার করা যায়। আমি আশা রাখি এই আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়লে আপনারাও এফিলিয়েট মার্কেটিং কে সেটি বুঝতে পারবেন এবং আমার মতন এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে টাকা রোজগার করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অনলাইন রোজগার এর এমন একটি অংশ যেটি থেকে রোজগার করতে গেলে আপনাকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে আর শুরুতে এক প্রকার কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করে যেতে হবে। এর কারণ যে কোম্পানির হয়ে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন সে আপনাকে তখনি টাকা দেবে যখন আপনার জন্য তাঁর সেল হবে। আর একজন নতুন ক্রিয়েটর এর পক্ষে শুরুর দিন থেকেই সেল করা সম্ভব নয়। তবে একটা বিষয় এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আপনার রোজগার বাড়বে, কোনোদিন কমবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য একটি স্মার্টফোন থাকলেই যথেষ্ট। কোনো দামি কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু ইন্টারনেট কানেকশন, গল্প বলার ক্ষমতা বা বিক্রি করার জ্ঞান এবং একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম যেখানে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন।

Table of Contents

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি

এটি অনলাইন রোজগার এর অন্যতম এবং সব থেকে সেরা একটি মাধ্যম। অন্য কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট বা পণ্য নিজের ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ইউটিউব চ্যানেল এর মাধ্যমে বিক্রি করে কমিশন পাওয়ার ব্যাপার টাই হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। আরো ভালোভাবে বললে- যখন কোনো ব্যক্তিকে আপনি আপনার লিংক থেকে কিছু কিনতে বলবেন এবং সেই ব্যক্তি যদি আপনার লিংক থেকে সেই জিনিসটি কেনে তাহলে সেটি হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। এবং এর ফলে আপনাকে যে কমিশন দেওয়া হবে সেটি হলো এফিলিয়েট কমিশন। আর এই লিংকটি হলো এফিলিয়েট লিংক।

কিছু কিছু এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এর ক্ষেত্রে আপনার লিংক থেকে যা কিছু কিনলেই আপনি কমিশন পাবেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কেবলমাত্র এফিলিয়েট লিংক এ দেওয়া প্রোডাক্ট কেনার জন্য আপনাকে কমিশন দেওয়া হবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক প্রকার এবং এফিলিয়েট কমিশন নির্ভর করছে বিভিন্ন এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এর নিজস্ব পলিসির ওপর। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার একটি ট্রাফিক সোর্স দরকার।

অর্থাৎ যদি আপনার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকে এবং তাতে যদি কিছু সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার বা ফলোয়ার থাকে তবে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হতে পারবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য একটি মোবাইল ফোন যথেষ্ট। তবে অবশ্যই তাতে ইন্টারনেট কানেকশন এবং আপনার একটি ট্রাফিক সোর্স থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: ভিডিও এডিটিং শিখে টাকা রোজগার এর পদ্ধতি

এফিলিয়েট মার্কেটিং কত প্রকার

আমি যতদূর জানি এফিলিয়েট মার্কের্টিং দু প্রকার। অন্তত এটুকু বলতে পারি আমি এই দু প্রকার এর বাইরে কোনো এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ব্যাপারে শুনিনি। প্রথমত এককালীন কমিশন এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং দ্বিতীয়ত রেকারিং কমিশন এফিলিয়েট মার্কেটিং। এই দু প্রকার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর নাম শুনেই হয়তো আপনি এর সুবিধা এবং অসুবিধার ব্যাপারে বুঝতে পারছেন। তবুও আমি একবার আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করি।

এককালীন কমিশন এফিলিয়েট মার্কেটিং

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে প্রোডাক্ট লিংক কে এফিলিয়েট লিংক বানিয়ে শেয়ার করতে হবে এবং যখন কোনো ব্যক্তি আপনার দেওয়া এফিলিয়েট লিংক থেকে প্রোডাক্ট কিনবে তখন আপনাকে কমিশন দেওয়া হবে। এখন এই এককালীন এফিলিয়েট মার্কেটিং মানে হলো আপনি কাউকে এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করার পর সে যখন প্রোডাক্টটি কিনবে তখনকার জন্যেই আপনি কমিশন পাবেন।

পরবর্তী কোনো সময়, ধরুন এক মাস, দু মাস, এক বছর পর যদি সেই ব্যাক্তি আবার কোনো প্রোডাক্ট কেনে তখন আপনি আর কমিশন পাবেন না। হ্যাঁ সে যদি আবার আপনার এফিলিয়েট লিংক থেকে কেনেন তবে আবার আপনি কমিশন পাবেন। এক কোথায় বললে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো এফিলিয়েট লিংক থেকে কিছু কিনবে আপনি শুধুমাত্র সেই টির জন্যেই কমিশন পাবেন।

রেকারিং কমিশন এফিলিয়েট মার্কেটিং

অন্যদিকে রেকারিং এফিলিয়েট মার্কেটিং মানে যদি আপনার লিংক থেকে কোনো ব্যক্তি কিছু একবার কেনে তবে পরবর্তী যতবার সে কিছু কিনবে আপনি ততবার কমিশন পেতে থাকবেন। রেকারিং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সাধারণত আপনাকে প্রথমে মানুষকে কোনো এইপ ডাউনলোড করাতে হয় কিংবা কোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে জয়েন করাতে হয়।

ধরুন আজ আপনি কাউকে একটি এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করলেন এবং সেই ব্যক্তি আজ গিয়ে একটি নতুন একাউন্ট বানিয়ে কিছু কিনলো। তাহলে এর পরবর্তী সময়ে যতবার সে ওই একাউন্ট থেকে কিছু কিনবে আপনি তার জন্য কমিশন পেতে থাকবেন। রেকারিং এফিলিয়েট সাধারণত মোবাইল এইপ, সফটওয়্যার, ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে হয় এবং এর কমিশন অনেক বেশি থাকে।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

আমাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলো বহুল প্রচলিত একটি প্রোগ্রাম যেটি যেকোনো নতুন ক্রিয়েটর এর জন্য ভালো। কারণ এটিতে যুক্ত হবার তেমন কোনো বিশেষ নিয়ম কানুন নেই। আপনার নিজের ইউটিউব চ্যানেল এ কিছু সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার (কম পক্ষে ৫০০) ও কিছু ভিডিও, কিংবা ব্লগে নির্দিষ্ট কিছু আর্টিকেল আমাজন এর প্রোডাক্ট নিয়ে হয়ে থাকলে আপনি সহজেই এই প্রোগ্রামে যুক্ত হতে পারবেন এবং আপনার একাউন্ট খুলে দেওয়া হবে। আপনি টেলিগ্রাম চ্যানেল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ দেখিয়েও আমাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হতে পারবেন।

amazon affiliate marketing in bengali
আমার ২০২২ এর আমাজন এফিলিয়েট কমিশন

আমাজন এফিলিয়েট এ আপনি ০% থেকে শুরু করে ১০% পর্যন্ত কমিশন পেতে পারবেন। এটি নির্ভর করছে কি প্রোডাক্ট আপনি সেল করছেন তার ওপর। সাধারণত মোবাইল ফোন, রিচার্জ, বিল পেমেন্ট ইত্যাদি তে ০% কমিশন, ইলেকট্রনিক পণ্যে ৫%, গৃহস্থালি দ্রব্যের ক্ষেত্রে ৮%, রান্নার সামগ্রী তে ৯% এবং বই হলে ১০% কমিশন পাওয়া যাই। আপনাকে প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কম পক্ষের ৩ টি সেল করতে হবে। তারপর ওনারা ভেরিফাই করে দেখবেন আপনার সেল গুলি বৈধ নাকি আপন নিজের বন্ধুদের বা চেনা মানুষ দেড় দিয়ে কিছু কেনা করিয়েছেন। মনে রেখেন এক্ষেত্রে আপনার ক্ষতি হবে, লাভ কিছুই হবে না। আপনার একাউন্ট এ ১০০০ টাকা হয়ে যাবার পর আপনার টাকা আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা

এর প্রধান সুবিধা হলো অনলাইন টাকা রোজগার করা। এবং বলতে পারেন এমন ভাবে টাকা রোজগার যার জন্য আপনাদের কোনো মাথা ব্যাথা করার প্রয়োজন নেই। আপনি টাকা রোজগার করবেন কোনো প্রোডাক্ট বিক্রি করে কিন্তু মজার ব্যাপার আপনার কাছে প্রোডাক্টটি রাখার কোনো প্রয়োজনই নেই। শুধু এই নয়। ভেবে দেখুন একটি দোকান দিয়ে সেখানে থেকে পণ্য বিক্রি করে রোজগার করতে গেলে আপনাকে কি কি জ্বলন সহ্য করতে হতো। কিন্তু এখানে আপনাকে শুধু মাত্র নির্দিষ্ট মানুষের কাছে তার সমস্যা সমাধান করে এমন প্রোডাক্ট পৌঁছে দিতে হবে ভালো কনটেন্ট এর মাধ্যমে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কোনো লিমিটেশন নেয়। আপনি যত খুশি তত টাকা রোজগার করতে পারবেন। আপনার এফিলিয়েট লিংক থেকে কিছু সেল বা বিক্রি হতেও পারে আবার নাও পারে, একদিনে অজস্র জিনিস বিক্রি হতে পারে আবার সেরকম কিছু নাও হতে পারে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সব থেকে ভালো ব্যাপার আপনাকে একবার কনটেন্ট বানিয়ে তার মধ্যে এফিলিয়েট লিংক দিয়ে দিলেই হলো। এরপর যতবার সেই কনটেন্ট এ দেওয়া এফিলিয়েট লিংক থেকে মানুষ কিছু কিনবেন ততবার আপনি কমিশন পেতে থাকবেন। শুধু এই নয় আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে টাকা রোজগার করবেন। এর জন্য আপনাকে সারাদিন মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার চালিয়ে বসে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো

অনলাইন টাকা রোজগার এর অনেক মাধ্যম রয়েছে। আমার মতে অনলাইন টাকা রোজগার এর সব থেকে ভালো মাধ্যম হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। অনলাইন টাকা রোজগার দুটি বিষয় এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ভালো কনটেন্ট আর গল্প বলার ক্ষমতা। দামি ক্যামেরা, ভালো ডিসাইন, সুন্দর চেহারা থাকলে ভালো। কিন্তু এগুলো না থাকলেও চলবে যদি আপনি ভালো গল্প বলতে পারেন। কিন্তু শুধু ভালো ক্যামেরা, সুন্দর ডিসাইন আর সুন্দর চেহারা দেখিয়ে আপনি বেশি দিন অনলাইন রোজগার করতে পারবেন না।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্যে দরকার একটি ট্রাফিক সোর্স। আপনি নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ কিংবা ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে কনটেন্ট বানানো শুরু করুন। তারপর দেখুন আপনার অডিয়েন্স বা দর্শক আপনার থেকে কোন ধরণের কনটেন্ট বেশি পছন্দ করছে। ধীরে ধীরে সেই ধরণের কনটেন্ট বাড়িয়ে দিন আর ওই ধরণের এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হন। যদি আপনার অডিয়েন্স ইলেকট্রনিক প্রোডাক্ট এর রিভিউ দেখছে তাহলে আমাজন, ফ্লিপকার্ট এফিলিয়েট এ যুক্ত হন। আবার যদি আপনার দর্শক ট্রাভেল কনটেন্ট এ আগ্রহী হয় তাহলে সেই ধরণের এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য বেশি করে কনটেন্ট বানান আর তার সাথে নিজের এফিলিয়েট লিংক দিতে ভুলবেন না। আপনার বানানো কনটেন্ট এ মাঝে মাঝে দর্শক কে বলুন যেন তারা যদি চাই তাহলে আপনার দেওয়া এফিলিয়েট লিংক থেকে প্রোডাক্টটি কেনে তাতে আপনার একটু উপকার হবে। এইভাবে শুরু করে দিন এফিলিয়েট থেকে টাকা রোজগার। তবে মনে রাখবেন শুধু টাকা রোজগার এর উদ্যেশ্য রাখলে হবে না, মানুষের সাহায্য কে মূল উদ্যেশ্য রাখতে হবে। যদি আপনি মানুষের সাহায্য করেন তাহলে ওনারা নিজেই আপনার এফিলিয়েট লিংক থেকে ক্রয় করবে আর আপনি কমিশন পাবেন।

একটি বোনাস টিপ্- চেষ্টা করুন আপনার মধ্যে সব থেকে ভালো কি রয়েছে সেটি কে খুঁজে বের করার। এরপর ভালো করে দেখুন মানুষের কোথায় সমস্যা রয়েছে। ব্যাস তারপর সেই সমস্যার সমাধান করলেই আপনি বেশি ভিউ পাবেন। আর বেশি ভিউ মানে বেশি এফিলিয়েট সেল। সঙ্গে এটাও বলে রাখি চেষ্টা করুন নিজের মাতৃ ভাষায় কনটেন্ট বানানোর। তাতে অল্প পরিশ্রমে বেশি ফল পাবেন।

মোবাইল দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো

আপনার কাছে কি মোবাইল রয়েছে তাতে কারোরই কিছু এসে যাই না কিন্তু আপনি মোবাইলে কেমন সুন্দর কনটেন্ট বানাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করছে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে কত টাকা রোজগার করতে পারবেন। দেখুন এফিলিয়েট মার্কেটিং মানে তো এমন নয় যে আপনাকে বিশাল কিছু সফটওয়্যার ইনস্টল করে কোডিং জাতীয় কিছু করতে হচ্ছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে শুধু এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করতে হবে। আপনি যেরকম কোনো ইনস্টাগ্রাম ভিডিও লিংক আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করেন ঠিক সেভাবেই কিন্তু এই লিংক শেয়ার করতে হবে আপনার বানানো নিজের কনটেন্ট এ।

এবার প্রশ্ন আসছে আপনি তো কনটেন্ট বানাতে জানেন না তাহলে কিভাবে। দেখুন তার ও উপায় আছে। কিন্তু কনটেন্ট বানানো টাই আসল। আপনি ভিডিও বানাতে না চাইলে ব্লগ লিখুন, সেটিও না চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া তে পোস্ট করুন। কিন্তু কিছু করুন। আর আপনি ও জানেন আর আমিও জানি এই কাজ গুলো করার জন্য মোবাইল আপনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বোরন মোবাইল আপনার প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সব থেকে সেরা মাধ্যম

আমি তো একজন ব্লগার তাই আমি সব সময় বলবো ব্লগিং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সব থেকে সেরা। কিন্তু বিষয় হলো আজকাল কার দিনে একটি ব্লগ শুরু করে সেটি দাঁড় করতে অনেক সময় লেগে যায়। এসব ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে গেলে অন্য একটি সহজ মাধ্যম হলো টেলিগ্রাম চ্যানেল।

যদিও এখানে এফিলিয়েট থেকে টাকা রোজগার করতে গেলে আপনার সাবস্ক্রাইবার এর প্ৰয়োজন। আর শুধু যেমন তেমন সাবস্ক্রাইবার নয়, এমন সাবস্ক্রাইবার যাঁরা আপনার দেওয়া লিংক থেকে গিয়ে কিছু কিনবেন। এবার এইরকম সাবস্ক্রাইবার আপনি ১০-২০ জন তো পেয়েযাবেন আপনার চেনা মানুষ দেড় যুক্ত করে। কিন্তু তারপর আপনাকে ভালো কনটেন্ট বানিয়ে সাবস্ক্রাইবার নিয়ে আসতে হবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়

এর কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেয়। আপনি যত চান তত টাকা রোজগার করতে পারবেন। শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে বেশি টাকা রোজগার করতে গিয়ে যেন কোনো তাড়াহুড়ো না হয়ে যায়। যেকোনো কোম্পানির কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে। সেগুলো পরে নিয়ে তারপর তার এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করুন। নইলে এমন ও হতে পারে আপনি যেনতেন প্রকারে সেল করিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করলেন ঠিকই কিন্তু আপনার কমিশন আপনাকে দেওয়া হলো না। এর কারণ আপনি ওনাদের পলিসি বা নিয়ম মানেন নি।

এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আপনি ইচ্ছা মতন দু হাত ভোরে টাকা রোজগার করতে পারবেন। যেমন ধরুন ইলেকট্রনিক প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে আমাজন এফিলিয়েট থেকে ৫% কমিশন দেওয়া হয়। এবার একটি AC যার মূল্য ₹৪০,০০০ এবং আপনি সেটি একটি বিক্রি করতে সক্ষম হলেন তাহলে আপনি ৫% কমিশন হিসাবে ₹২০০০ পেয়ে যাবেন। এবার যদি প্রতিদিন একটি AC আপনি সেল করেন তাহলে আপনার মাসের শেষে রোজগার দাড়াবে সর্বমোট ₹৬০,০০০ এবং যদি আপনি প্রতিদিন আরো বেশি বিক্রি করতে পারেন তাহলে আরো বেশি টাকা।

এটাতো গেলো ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট যা কিছু আমরা হাতে নাড়তে পারি, প্রতিদিন ব্যবহার করি। এই ধরণের প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে কমিশন সাধারণত ০-১০% পর্যন্ত হয়। একইভাবে যদি আপনি একটি ₹২০,০০০ মূল্যের সফটওয়্যার বিক্রি করতে সক্ষম হন তাহলে আপনি অনায়াসে ২০% থেকে ৬০% কমিশন পেয়ে যেতে পারেন।

ব্যাঙ্ক তে এফিলিয়েট কমিশন পেতে কত সময় লাগে

একটি জিনিস আপনি নিশ্চয় জানেন যা কিছু আমরা অনলাইন কিনি তা রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জ করা যায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং তার পরিবর্তে আমরা আমাদের ক্রয় মূল্য ফেরত পেয়ে যেতে পারি। এবার যখন আপনি কাউকে এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করেন এবং সে যখন কিছু কেনে তার সঙ্গে সঙ্গেই আপনাকে আপনার কমিশন আপনার এফিলিয়েট একাউন্ট বা ড্যাশবোর্ড এ দিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু এই টাকা আপনি সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিতে পারেন না। অন্তত ৬০ দিন যাবার পর আপনার টাকা আপনি তুলে নিতে পারেন বা আপনাকে আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ দিয়ে দেওয়া হয়। এর কারণ এফিলিয়েট কোম্পানি রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জ এর সময় পেরোনো অবধি অপেক্ষা করে। যদি এমন না করেই ওনারা আপনাকে টাকা দিয়ে দেয় তাহলে তো ওনাদের ক্ষতি। আর নিজের ক্ষতি তো আমরা কেওই চাই না।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স করার কি প্রয়োজনীয়তা আছে

আপনি যদি আমাকে অনেক আগে থেকে ফলো করে থাকেন, আমার ইউটিউব ভিডিও কিংবা লিংকডইন পোস্ট দেখে থাকেন তাহলে আপনি হয়তো জানেন যে আমি যা কিছু করেছি আমার এই ২৬ বছর বয়সে তার সব কিছুই এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে। কিন্তু সত্যি কথা আমি আজ অবধি কোনো কোর্স করি নি এফিলিয়েট মার্কেটিং কিংবা ব্লগিং এর জন্য।

তবে আমাকে অনেকেই আমার লিংকডইন এ বলে থাকে যে তারা চ্যাপ্টার অনুযায়ী শিখতে চাই এবং কেও তাদের গাইড করুক এটা চাই। এই ভেবে আমি নিজে একটি বাংলা এবং ইংলিশ এ বই লেখার চেষ্টা করছি এবং কোর্স বানানোর ও চিন্তা ভাবনা করছি।

সেসব কিছুর ব্যাপারে আপনারা আমার টেলিগ্রাম চ্যানেল এ জানতে পারবেন। তবুও আমি বলবো কোনো কোর্স করার প্রয়োজনীয়তা নেয়। আমি যেমন পেরেছি সব কিছু অনলাইন ফ্রি তে শিখতে, আপনারা আমার থেকে অনেক বেশি শিক্ষিত আর আধুনিক, আপনারা নিশ্চয় পারবেন, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রশ্ন ও উত্তর

1. ফ্রি তে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়?

হ্যাঁ। এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হয়ে টাকা রোজগার করতে আপনার কোনো টাকা খরচের প্রয়োজন নেই। একদম ফ্রি তে সমস্ত কিছু হবে।

2. কোনো ধরণের প্রোডাক্ট বিক্রি করলে এফিলিয়েট কমিশন পাওয়া যায়?

যেকোনো ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট যেমন মোবাইল এইপ, সফটওয়্যার, ওষুধ, বই, ল্যাপটপ, এসি, ফ্রিজ, ইনভার্টার, ওয়াশিং মেশিন, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ডিজিটাল কোর্স, ইবুক ইত্যাদি থেকে আপনি এফিলিয়েট কমিশন পাবেন।

3. এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কি PAN CARD বাধ্যতা মূলক?

হ্যাঁ। এফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে টাকা রোজগার করে সেই টাকা নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ নেওয়ার জন্যে ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর ডিটেলস এবং PAN CARD থাকা বাধ্যতামূলক।

4. কত বয়স হলে আমি এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হতে পারবো?

নূন্যতম ১৮ বছর বয়স হলে আপনি এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হতে পারবেন।

5. কেন আমার এফিলিয়েট একাউন্ট বন্ধ হয়ে গেল?

নির্দিষ্ট কিছু সময়ের মধ্যে প্রাথমিক সেল না করতে পাড়ার কারণে কিংবা কোনো বেনিয়ম করার ফলে আপনার এফিলিয়েট একাউন্ট বন্ধ হয়ে থাকতে পারে।

6. এফিলিয়েট মার্কেটিং যারা করে তাদের কি বলে?

এফিলিয়েট মার্কেটিং যারা করে তাদের ডিজিটাল মার্কেটার বা এফিলিয়েট মার্কেটার বলা হয়ে থাকে।

7. কয়টি প্রোডাক্ট নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা হয়?

আপনি নির্দিষ্ট একটি প্রোডাক্ট নিয়েও করতে পারেন আবার নির্দিষ্ট একটি ধরণের কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে করতে পারেন আবার অনেক ধরণের অনেক রকম প্রোডাক্ট নিয়ে করতে পারেন। পুরোটাই নির্ভর করছেন আপনার উপর।

8. আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কত টাকার নিচে উইথড্র করা যায় না?

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ভারত এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ₹১০০০ টাকা না হলে এবং US এর ক্ষেত্রে $১০০ না হলে উইথড্র করা যায় না।

Leave a Comment