২০২৫ শুরু হয়ে গেলো আর এখনও আপনি ভাবছেন Content Creator হবেন কি না? আর এসব ভাবার বয়স নেই। অনেকতো ভাবলেন এবার একটা রিস্ক নিয়ে শুরু করেই দিন। খুব বেশি হলে কি হবে, অসফল হবেন, তাইতো। তাতে কার কি, আপনার তো শেষ বয়সে আপসোস হবে না। বুড়ো বয়সে আপসোস করার চাইতে, সময় থাকতে চেষ্টা করে অসফল হওয়া অনেক ভালো।
আপনি ভাববেন শুভম এগুলো আবার কি বলছে। আচ্ছা, আমি একটু ভেঙে বলি। আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ভাবেন কনটেন্ট বানানোর কথা, কিন্তু শুরু করতে পারছেন না। আপনাদের মনে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন দানা বাঁধে, আপনারা ভাবেন সমাজ কি ভাববে, শুরু কি ভাবে করবেন, কি ধরণের কনটেন্ট বানাবেন ইত্যাদি।
দেখুন, আপনার মাথায় কি চলছে তা তো আপনি ছাড়া কেও জানে না। তবে যদি আপনি ভাবছেন Content Creator হওয়ার কথা কিন্তু বুঝে উঠতে পারছেন না আদৌ আপনার কনটেন্ট বানানো উচিত কি না, তবে এক কথায় বললে আমি বলবো ২০২৫ এ সবার উচিত কনটেন্ট বানানো। এটা যে শুধু টাকা রোজগার এর জন্যই তা নয়। এর পেছনে অনেক কারণ আছে। সেগুলো একে একে বলছি।
আমাদের সবার কেনো কনটেন্ট বানানো উচিত
এই যে প্রশ্নটা আমি রেখেছি, কেনো আমাদের সবার কনটেন্ট বানানো উচিত, সত্যি কথা বলতে কি এর কোনো সঠিক উত্তর আমার এই মুহূর্তে মাথায় আসছে না। তবুও নিজের ভাষায় বলার চেষ্টা করছি। আজকের দিনে আপনি যদি খুব ভালোভাবে কোনো Content Creator কে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়াতে ফলো করেন তবে দেখবেন যে বেশিরভাগ যাদেরকে দেখে আপনার ভালো লাগছে তারা কিন্তু কেও শুধুমাত্র রোজগার করবো বলে কনটেন্ট বানাচ্ছে না। তাদের বেশিরভাগই কোনো একটা কাজের সাথে যুক্ত এবং তারসাথেই সময় বের করে ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক বা ইউটিউবের জন্য নিয়মিত ভিডিও বানাচ্ছে।
আমি ভীষণভাবে বিশ্বাস করি কনটেন্ট ক্রিয়েশনে মানুষের ভালোবাসা পেতে, হয় ভগবানের দেওয়া কোনো ট্যালেন্ট থাকতে হবে আর নইলে অর্জন করতে হবে বিদ্যা। দু একজন ক্রিয়েটর এর কিছু ভিডিও আমি, আপনি দেখি যেগুলোই হয়তো প্রচুর ভিউস থাকে। কিন্তু আমরা তাদের ফলো করি না। শুধুমাত্র নিজেদের জিজ্ঞাসা মিটে গেলেই আমরা তাদের দেখা বন্ধ করে দি।
অন্যদিকে কাউকে দেখে আমরা যদি নিজেদের সাথে কোনো মিল পাই বা তাদের মতন হওয়ার ইচ্ছা জাগে তখন তাদেরকে ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম এ একবার দেখে তাদের আমরা বারংবার দেখতে চাই। এটা কিন্তু এমনি এমনি হয়না। এটাই তাদের যোগ্যতা, তাদের শিক্ষা।
আচ্ছা যেটা বলছিলাম, কেনো আমাদের সবার ২০২৫ এ কনটেন্ট বানানো উচিত। এর উত্তর হলো, একটা তো অতিরিক্ত রোজগার। আর তাছাড়া আমরা আমাদের পছন্দের কিছু কাজ যেটা যা কিছু হতে পারে, যেমন ডিসাইন, রান্না, ঘর গোছানো, গাছ লাগানো কিংবা ঘুরে বেড়ানো। এইসব কিছু করে, নিজের জীবনকে নিজের মতন কাটিয়ে আমরা ভালো থাকতে পারি।
একবার ভাবুন তো কখনো ঘুরতে গিয়ে বা বাড়িতে পছন্দের রান্না করার সময় মনে হয় আপনি টাকার জন্য কাজ করছেন? মনে হয় না। কিন্তু এই একই কাজ শুধু সামনে একটা ক্যামেরা লাগিয়ে করলে আপনি মনের আনন্দে দিন কাটাবেন আর ঘরে আসবে অতিরিক্ত টাকা। মন্দ কি এটা?
কনটেন্ট বলতে কি শুধু ভিডিও বানানো
না কনটেন্ট বানানো মানে একেবারেই শুধু ভিডিও বানানো নয়। ভিডিও তো আজকাল খুব জনপ্রিয় হয়েছে। আগে তো এরকম ছিল না। একটা সময় ছিল যখন ইন্টারনেট সবার কাছে থাকলেও অফুরন্ত ইন্টারনেট ছিল না। সেই সময় ইন্টারনেট থেকে কিছু জানার প্রধান মাধ্যম ছিল গুগল এবং গুগলের আর্টিকেল।
আজকের দিনেও আমাদের সবার কাছে আনলিমিটেড ইন্টারনেট আছে মানে এই নয় আমরা সারাদিন ভিডিও দেখে যাবো। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন আপনি সারাদিনে কয়টা ভিডিও দেখেন। হিসেবে করে দেখবেন খুব বেশি হলে ৩-৪টা। কিন্তু ব্লগ বা আর্টিকেল এমন জিনিস, যেটা মনের মতন কারোর লেখা পেলে আপনার ইচ্ছা হবে শুধু পড়েই যেতে। শুধু তাই নয়। ভিডিও দেখার জন্যে আপনাকে একটু ভালো পরিবেশের ও দরকার পড়বে। শান্ত পরিবেশ না হলে ভালো শব্দ শোনা যাবে না নয়তো আপনাকে হেডফোন ব্যবহার করতে হবে।
একটা ভিডিওতে কোনো কথা বা কোনো দৃশ্য ভালো লাগলে সেটা আবার দেখতে বারবার ঘুরিয়ে দেখতে হবে। আর্টিকেল পড়ার ক্ষেত্রে কিন্তু সেরকম না। আপনি আর্টিকেল পড়লে আপনার আশেপাশের কারোর অসুবিধে হবে না এবং আপনি যেকোনো জায়গায়, যেকোনো অবস্থায় আর্টিকেল পড়তে পারবেন। আর্টিকেল ও ভিডিও ছাড়াও কনটেন্ট আরও এক ধরণের হয় যা হলো অডিও মাধ্যম।
কিভাবে শুরু করবেন কনটেন্ট ক্রিয়েশন
সফলতার মাপকাঠি যদি টাকা কেই ধরে নেন তবে সেক্ষেত্রে শুরুতেই বলে রাখি কনটেন্ট ক্রিয়েশন একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এর জন্যে আপনাকে হয়তো এক মাস বা এক বছর কিংবা হতে পারে অনেক গুলো বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। যদিও আপনি যদি আজ কনটেন্ট বানানো শুরু করেন সেটা যেমনি হোক না কেনো প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করেন, নতুন কিছু শিখতে থাকেন, নিজের ভুল গুলো বুঝে সংশোধন করতে থাকেন তবে লক্ষ্য করবেন একটু একটু করে আপনি এগোচ্ছেন।
হয়তো আপনি আজ কনটেন্ট বানানো শুরু করলেন আর কাল বা এক মাস পরেই আপনার রোজগার হতে লাগলো এরকম হবে না। কিন্তু আজ আপনি শূন্য সাবস্ক্রাইবার নিয়ে একটা ইউটিউব চ্যানেল চালানো শুরু করে যদি সেখানে নিজে সৎ থেকে প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করতে থাকেন এবং একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে ভিডিও আপলোড করতে থাকেন তবে দেখবেন প্রতিদিন একটা দুটো করে আস্তে আস্তে আপনার ১০০-২০০ সাবস্ক্রাইবার বাড়তে থাকছে। যারা রোজ আপনাকে দেখতে চাই, আপনার কাজ দেখতে চাই, আপনাকে কাছ থেকে চেনে না তবে আপনার কাজ দেখে বা আপনার ভিডিওতে আপনাকে দেখে আপনাকে ভালোবাসে, আপনার মতন হতে চাই। এটাই সফলতা। এর থেকেই হয় রোজগার। এভাবেই কনটেন্ট ক্রিয়েটররা একটু একটু করে শূন্য থেকে শুরু করে বড় হয়।
একজন ব্লগার হিসেবে সফলতা পেয়ে থাকলেও ইউটিউব মন দিয়ে না করাই এখনও আমি সফল ইউটিউবার নয়। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমারও একটা বাংলা ইউটিউব চ্যানেল আছে যেখানে আমি নিজের জীবনকে তুলে ধরি। সেই চ্যানেল একটু একটু করে রোজ এগোচ্ছে। আমার কাছে এটাই সফলতা।
চাকরির সাথে কনটেন্ট বানাবো না চাকরি ছেড়ে দেবো
একটা কথা আছে ‘নাচ না জানলে উঠোনের দোষ’. কনটেন্ট ক্রিয়েশন আজকের দিনে সবচাইতে জনপ্রিয় একটা রোজগারের মাধ্যম। শুধু রোজগার তা তো নয়। তার সাথে আপনি বিখ্যাতও হতে পারবেন। একটা সময় ছিল যখন মানুষ ক্রিকেটার বা সিনেমায় নামতে চাইতো। কিন্তু এখন ছোট থেকে বড় সবাই চাই কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে। এমনকি নামি দামি সিনেমা, সিরিয়াল এর হিরো হিরোইন কিংবা ক্রিকেটার রাও আজকাল কনটেন্ট বানাচ্ছে। তাহলে আপনি, আমি কেনো নয়?
সত্যি কথা বলতে কনটেন্ট বানানোর ইচ্ছা আপনার বা আমার হয়না তা তো নয়। বাকি সবারই হয়। কিন্তু যে লজ্জায় হোক আর অন্য যে কারণেই বানাতে জানে না বা বানাতে পারে না সেই বাকি নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর দের দেখে ঠাট্টা করে। এদের আপনি পাত্তা দেবেন? আমি তো আজকাল আর দি না।
কনটেন্ট যেমন ধরুন ভিডিও, অডিও বা ব্লগ লিখে আজকাল রোজগার প্রচুর হয়। এক মাসে আপনি এত টাকা রোজগার করতে পারবেন যেটা আপনার কল্পনার বাইরে। কিন্তু এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। আজ রোজগার হচ্ছে কিন্তু আগামীকালও যে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আমি বলবো একটা চাকরির সাথেই কনটেন্ট বানানো শুরু করুন। যখন দেখবেন অনেকটা টাকা জমিয়ে ফেলেছেন, কোনো কারণে আপনার রোজগার বন্ধ হয়ে গেলেও, আর্থিক দিক দিয়ে সমস্যা হবে না তখন নাহয় আপনি চাকরি চাইলেও ছাড়তে পারেন এবং পুরো সময়টাই কনটেন্ট কে দিতে পারেন।
এছাড়াও যতই আমরা ২০২৫ এ বাস করি না কেনো, দিনের শেষে আমরা বাঁচি সমাজ আমাদের দেখে কি ভাবছে সেই নিরিখেই। তাই আপনি যতই বড় ক্রিয়েটর হয়ে যান না কেনো, ওই সমাজ কে বোঝাতে পারবেন না আপনার রোজগার হচ্ছে তো হচ্ছে কিভাবে। তাই চাকরি করুন। সম্মান থাকবে। কনটেন্ট বানাতে তো আর আপনার ২৪ ঘন্টা লাগবে না। দিনে হয়তো ৩-৪ ঘন্টা আর সপ্তাহে হয়তো দু তিনটে কনটেন্ট আপনি বানাবেন। সেইটা অনায়সে চাকরির সাথে করে নেওয়া যায়।
আমি চাকরি করি না কারণ আমি কনটেন্ট বানানো অনেক অল্পবয়সে শুরু করি আর সফলতা পেয়ে যায়। পরে এটাই আমার সারাদিনের কাজে রূপান্তরিত হয়ে ওঠে। যদিও মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করে চাকরি করতে। বলা যায় না, কোনোদিন হয়তো চাকরি করতেও লাগলাম। তবে চেষ্টা থাকবে চিরকাল কনটেন্ট বানিয়ে যাওয়ার।
উপসংহার
আজ আমি অনেকদিন পর বাংলা আর্টিকেল লিখলাম। দেখি, চেষ্টা করছি নিয়মিত বাংলা আর্টিকেল লেখার। আসলে নিজের ইউটিউব চ্যানেল, লিংকডইন, ফেইসবুক পেজ এবং আরও কিছু ব্লগ নিয়ে সারাদিন এমনি পেরিয়ে যায়। ২০২৫ এ আমারও লক্ষ্য সবকিছু কে একটু সাধারণ করে, বেশি চিন্তাভাবনা না করে জীবনকে গোছানো। দেখা যাক, কতদূর কি করতে পারি।
আজকের এই আর্টিকেলে আমি বলেছি কেনো আমাদের সবার কনটেন্ট বানানো উচিত। আশা করি আমার বোঝানো আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি আপনারা একটা কমেন্ট করেন তবে খুবই উপকৃত হতাম। আচ্ছা, আপনার মনে ইচ্ছে জেগে থাকলে কনটেন্ট বানানো আজই শুরু করে দিন। কোনোরকম সহায়তা প্রয়োজন পড়লে আপনি আমাকে আমার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।
ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। আমার নাম শুভম বিশ্বাস। আমি গত ৫-৬ বছর ধরে ব্লগিং করছি। এই ব্লগটা শুরু করেছি বাংলায় ক্রিকেট খবর এবং আইপিএল নিয়ে লেখার জন্য। ক্রিকেট আমার ছোটবেলা থেকেই একটা ভালোলাগার জায়গা তাই সেই ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে এই নতুন উদ্যোগ।