Affiliate Marketing in Bengali: কীভাবে কোনো খরচ না করেই এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে টাকা রোজগার করা যাবে?

আজ থেকে বছর খানেক আগে আমি প্রথম এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ব্যাপারে শুনি। সেইসময় এত কিছু না বুঝলেও, এটুকু বুঝেছিলাম, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রোজগার এর অপর নাম এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)। আজকের এই আর্টিকেল পড়ে আপনারা জানতে পারবেন কীভাবে কোনো খরচ না করেই এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে টাকা রোজগার করা যাবে। অল্প দিনে বড়লোক হবেন না ঠিকই, তবে মাত্র কিছু বছর মন দিয়ে কাজ করে একটা গোটা জীবন সুখের কাটাতে এফিলিয়েট মার্কেটিং-ই আপনাকে সাহায্য করবে। ঠিক যেমন আমাকে করেছে।

আপনারা যারা আমার ভিডিও দেখেন তারা জানেন আমি ব্লগিং করি, আর সেই থেকেই হয় রোজগার। এই যে আমি এখন আর্টিকেল লিখছি, এটাই হলো ব্লগিং বা ব্লগ লেখা। তবে এই লেখার জন্যে কেও আমাকে টাকা দেয় না। টাকা রোজগারটা হয় অন্যভাবে। প্রথমত ব্লগে থাকা এডস এর কারণে, দ্বিতীয়ত ব্লগে বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রমোট করে কিংবা সময়ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড এর সাথে পার্টনারশীপ করে। এছাড়াও আরও অনেক পথ রয়েছে ব্লগের মাধ্যমে রোজগার করার।

ব্লগ হোক ইউটিউব চ্যানেল কিংবা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রোজগার, যাই করুন না কেনো, মোট কথা একবার কাজ করে বারবার রোজগার করতে চাইলে (বিশেষ করে নিজের কোনো খরচা না করে) এফিলিয়েট মার্কেটিং আপনাকে সাহায্য করবে। আপনি চাইলে নিজের প্রোডাক্ট বানিয়ে বিক্রি করতেই পারেন। সেক্ষেত্রে রোজগার বেশি হবে ঠিকই। যেমন ইবুক বা নিজের কোর্স। কিন্তু আগে আপনাকে নিজেকে উন্নত করতে হবে, কোর্স বানাতে হবে, ইবুক তৈরী করতে হবে। অর্থাৎ অনেক খরচা। কিন্তু এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য শুধু অন্য কারোর প্রোডাক্ট লিংক পৃথিবীর যে কাউকে শেয়ার করে রোজগার করতে পারবেন।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে কোনো খরচ না করেই এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে টাকা রোজগার করা যাবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি

যখন আমরা কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট বা অন্য কারোর প্রোডাক্ট লিংক পৃথিবীর যে কাউকে শেয়ার করি এবং সেই ব্যক্তি আমাদের দেওয়া লিংক থেকে গিয়ে ওই প্রোডাক্ট কেনে, তখন আমরা কিছু কমিশন পেয়ে থাকি। এটাই হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং।

মজার বিষয় হলো, এইভাবে টাকা রোজগার এর জন্য আমাদের কে প্রোডাক্ট নিজেদের কাছে রাখতে হচ্ছে না, যার প্রোডাক্ট বিক্রি করছি তার কাছে যেতে হচ্ছে না, পরিচয় করতে হচ্ছে না, যাকে বিক্রি করছি তাকেও চেনার দরকার নেই, তবুও রোজগার হচ্ছে। আমাদের যেটা দরকার তা হলো কনটেন্ট বানানো। ভিডিও কনটেন্ট হোক বা টেক্সট কনটেন্ট, এই কনটেন্ট বানিয়ে আমরা তাতে এফিলিয়েট লিংক প্রমোট করে রোজগার করতে পারি।

কিভাবে শুরু করবো এফিলিয়েট মার্কেটিং

চাইলাম আর এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে রোজগার করে বড়লোক হয়ে গেলাম, এইটা হয়তো সম্ভব নয়। কারণ এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ওভাবে রোজগার হয় না। এইটা একটা লম্বা পদ্ধতি। তবে হ্যাঁ, এটুকু বলতে পারি, এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে রোজগার যখন আপনার শুরু হবে, তখনও যদি আপনি সমান পরিমান পরিশ্রমের সাথে কাজ করতে থাকেন তবে আপনার রোজগার প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে বাড়তেই থাকবে। উদাহরণ আমি নিজেই।

ধরুন আপনি একটা ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেছেন, এবার সেইটা দিয়ে রোজগার করতে চাইছেন। তার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। যেমন গুগল এডসেন্স থেকে রোজগার প্রথম দিন থেকেই হবে। কিন্তু এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে তখনি হবে যখন আপনার কনটেন্ট এর থাকা লিঙ্কে গিয়ে কেও কিছু কিনবে। আর এটা তখনি সম্ভব যখন দর্শক বা পাঠকের আপনার কনটেন্ট ভালো লাগবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য প্রথমে আপনাকে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এর এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হতে হবে। এই কাজ আপনি নিজে থেকেই করে নিতে পারবেন। কোন ধরণের প্রোডাক্ট আপনি প্রমোট করছেন তার উপর নির্ভর করছে আপনি কত কমিশন পাবেন।

যেমন সফটওয়্যার, ইন্সুরেন্স, লোন ইত্যাদি এফিলিয়েট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে কমিশন অনেক বেশি। আবার মোবাইল, ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র ইত্যাদির ক্ষেত্রে কমিশন অনেক কম। মনে রাখার বিষয় হলো শুরুতেই আপনি খুব ভালো এফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে পারবেন না। আপনাকে শুরুর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে একটি টপিক এর ওপর নিয়মিত ভালো কনটেন্ট বানিয়ে যাওয়ার দিকে। তারপর ব্র্যান্ড যদি সেই কনটেন্ট দেখে পছন্দ করে তখন তারা নিজেরাই আপনাকে অফার করবেন তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হবার জন্যে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে কি টাকা লাগে

এক কথাই উত্তর দেবো? না, এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে কোনো টাকা লাগে না। এমনকি, আক্ষরিক অর্থে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে কোনোদিন কোনো টাকা লাগে না। তবে ঘুরিয়ে বললে, লাগতেও পারে। এই যেমন আমি উপরে বললাম এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে রোজগার করতে আপনাকে কনটেন্ট বানাতে হবে।

এবার এই কনটেন্ট আপনি নিজেই সব দায়িত্ব নিয়ে বানাতে পারেন। যেমন ধরুন, একটা ইউটিউব চ্যানেল এর ভিডিও আপনি নিজেই বানিয়ে, নিজেই এডিট করে আপলোড করলেন। কিংবা একটা ব্লগ শুরু থেকে শেষ অবধি আপনি নিজেই লিখলেন। আর বারবার এই কাজ করে গেলেন। সেক্ষেত্রে কোনো টাকা লাগবে না।

আপনি চাইলে আপনার ভিডিও ভালো করার জন্য ভালো সেটআপ করলেন, কয়েকটা মানুষের সাহায্য নিলেন এবং তাদের নিয়মিত বেতন দিলেন। অন্যদিকে ব্লগ নিজে না লিখে অন্য কাউকে দিয়ে লেখালেন, তাকে টাকা দিলেন। এছাড়াও, যে প্রোডাক্ট আপনি প্রমোট করবেন, সেইটা আগে নিজে ব্যবহার করেই প্রমোট করা উচিত। সেক্ষেত্রে আগে নিজে সেটা কিনে, কিছুদিন বা কিছু মাস ব্যবহার করে তারপর অন্যদের নিতে বললেন ও কনটেন্ট বানালেন। এইভাবে দেখতে গেলে, এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে টাকা লাগে।

উপসংহার (এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে টাকা রোজগার)

আজকের এই আর্টিকেল পড়ে আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন কীভাবে কোনো খরচ না করেই এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন। জানি না কতজন প্রথমবারের জন্য আমার ব্লগ পড়ছেন, তবে প্রথম হোক বা দ্বিতীয়, এইরকম ব্লগ লিখেই এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আমি রোজগার করে আসছি এতবছর ধরে। এবং চেষ্টা করলে আপনারা সবাই পারবেন এ কাজ করতে। অন্যায় তো আর কিছু নয়, তাই চেষ্টা টুকু করবেন না কেনো?

আপনাদের সমস্যা আপনারা কমেন্ট করে জানান। আমি আছি আপনাদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্যে।

বলে রাখি, এইরকম ছোট ছোট টুকরো টুকরো বিষয় নিয়ে গল্পের ছলে ভিডিও আমি আমার বাংলা ইউটিউব চ্যানেল এর জন্য প্রতি সপ্তাহে বানাই। আপনারা চাইলে সেই ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। আশা করি আমার লেখার মতন, আমার ভিডিও আপনাদের ভালো লাগবে।

Leave a Comment