Video Editing in Bengali: ভিডিও এডিটিং শিখে বাড়ি বসে কত টাকা রোজগার সম্ভব?

ভিডিও এডিটিং হলো আজকের পৃথিবীর এক অন্যতম স্কিল যা আপনার জীবন সম্পূর্ণরূপে না পারলেও, অনেকাংশেই বদলে ফেলতে পারে। আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো – ভিডিও এডিটিং শিখে বাড়ি বসে কত টাকা রোজগার সম্ভব। আমার ধারণা, ভিডিও এডিটিং এমন এক স্কিল যা শিখতে অনেকটাই কষ্ট, কাজ করতেও অনেকটা কষ্ট, কিন্তু এটি এমন এক কাজ, যাতে কোনো রিস্ক নেই, তবে আছে প্রচুর রোজগার, বিরাট ভবিষ্যৎ এর সম্ভাবনা। আপনারা আমাকে ইউটিউবে ফলো করে থাকলে হয়তো জানবেন, আমি নিজেও এটাই করছি।

কেও অস্বীকার করবে না হয়তো, আজকের দিনে আমরা সবাই বিভিন্নরকম ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে প্রতিদিন দেখি। কমবেশি আমরা সবাই চাই নিজেরাও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সবাই পারি না। তার বিভিন্ন কারণ। এই যেমন আমাদের অনেকের লজ্জা, ভয়, ভালো গ্যাজেট না থাকা বা লোকে কি বলবে এইসব উল্টোপাল্টা ভাবনা। সে যায় হোক।

বাড়ি বসে রোজগার যে সম্ভব এবং আমার-আপনার আশেপাশে অনেকেই যে করছে সে কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ভাববার বিষয় এটাই, আপনি কিভাবে নিজের ফাঁকা সময়ে কিছু কাজকর্ম করে বা ইচ্ছে হলে নিজের চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে রোজগার করতে পারবেন। শুধু যে ভিডিও এডিটিং তাই নয়, এছাড়াও গ্রাফিক ডিসাইন, ব্লগিং, কনটেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডিসাইন ইত্যাদি কিছু বিশাল জনপ্রিয় স্কিল যা আপনি রপ্ত করে নিজের বাড়ি বসে শুধু ইন্টারনেট ও একটি ডিভাইস (মোবাইল বা ল্যাপটপ) এর সাহায্যে রোজগার করতে পারবেন। যেহেতু আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু ভিডিও এডিটিং এবং তা থেকে কিভাবে রোজগার সম্ভব, তাই চলুন সেই নিয়েই বিশদে কথা বলা যাক।

Table of Contents

Video Editing কাদের শেখা উচিৎ

এখন যুগ এসেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের। আর এখন বলছি কেনো, প্রায় ৬-৭ বছর থেকেই, যবে থেকে আমাদের দেশে জিও এসেছে, তবে থেকেই দিনের পর দিন মানুষের কনটেন্ট দেখার সংখ্যা বাড়তেই থেকেছে। যদিও তার সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উপচে পরা ভিড়। এরকম সময় দর্শকদের ভালোবাসা পেতে, ট্রেন্ড এর সাথে ভালো কনটেন্ট বানিয়ে যেতে প্রতি ক্রিয়েটর চাই নিজের কনটেন্ট ভালোভাবে বানাতে। একটা কনটেন্ট ভালো বানানো অর্থাৎ সেখানে ভালো গল্প থাকতে হবে, ভালো ক্যামেরায় রেকর্ড করতে হবে, অডিও ভালো হতে হবে এবং ভিডিও এডিটিং অতি অবশ্যই ভালো হতে হবে।

ইচ্ছে তো আমাদের সবার করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার কিন্তু আমরা সবাই পারি না। তার বিভিন্ন কারণ। কিন্তু নিজে কনটেন্ট না বানালেও অন্যের কনটেন্ট বানানোতে সাহায্য করতে তো পারি, আর তারই সাথে রোজগারও যদি হয়, তাহলে মন্দ কোথায়? এই জন্যে আমাদের সবার ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক ডিসাইন শেখা উচিৎ। কারণ এইগুলি এমন সফ্ট স্কিল যার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো জায়গাতে থেকে আপনি রোজগার করতে পারবেন। সম্পূর্ণটাই নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী।

ছোট্ট করে একটা কথা বলে রাখি। হতেই পারে ভিডিও এডিটিং আপনার ভালো লাগে, আপনি নিজে চেষ্টা করছেন কিন্তু পারছেন না, তবে দুঃখ পাবেন না। রোজগার করার আরও অনেক উপায় রয়েছে। এবং একান্তই আপনি আপনার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া বা ইউটিউব চ্যানেল এর জন্য ভিডিও এডিটিং করতে চাইছেন তবে তার জন্য অন্য কাউকে দিয়েও এই কাজ করিয়ে নিতে পারবেন।

FREE তে কি আদৌ প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং শেখা যায়

হ্যাঁ যায় তো। আপনার হয়তো শুনে অবাক লাগবে, কিন্তু যেসমস্ত ক্রিয়েটরকে আপনি ফলো করেন তাদের অধিকাংশ বা সকলেই ইউটিউব থেকেই ভিডিও এডিটিং শিখেছে। হতে পারে আজ তারা নিজেদের কোর্স বিক্রি করছে, আপনাকে কিনতে বলছে, আপনি কিনতেও চাইছেন। সেসব ঠিক আছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ভিডিও এডিটিং বা ব্লগিং কিংবা এই ধরণের স্কিল আপনি কোনো ইনস্টিটিউশন থেকে সম্পূর্ণ শিখতে পারবেন না। পারলেও সেই লেভেল অবধি যেতে পারবেন না যেখান থেকে আপনি ভয়ডরহীন কাজ করতে পারবেন।

যেমন ধরুন, আপনি দেখবেন অনেকেই রয়েছে যারা সবে মাত্র প্রিমিয়ার প্রো বা দাভিঞ্চি সফটওয়্যার চালানো শিখেছে কিন্তু তাতেই তারা ক্লায়েন্ট এর কাজ করা শুরু করে দেয়। যেখানে তাদের আটকায় সেই জায়গাটা তারা নিজেরাই নিজেদের মতন ইউটিউবে খুঁজে আবার কাজ করতে থাকে। এভাবেই সবাই শেখে, এভাবেই আপনাকেও শিখতে হবে।

adobe premiere pro video editing tutorial in bengali

আপনার কাছে টাকা থাকলে আপনি কোনো ক্রিয়েটর এর কোর্স বা কোনো ইন্সটিউশন এ যোগদান করতেই পারেন। সেখানে তো আপনাকে পরপর ক্লাস বা সিলেবাস অনুযায়ী সমস্ত বিষয়টা শেখাবে। কিন্তু তারপর? কাজ তো সেই আপনাকে নিজেই করতে হবে। আর ভিডিও এডিটিং বাংলা পদ্য বা মাধ্যমিকের ইতিহাস, ভূগোল নয় যে আপনি মুখস্ত করে চলে গেলেন আর হয়ে গেলো। এটা অনেকটা অংকের মতন। দিনের পর দিন প্রাকটিস ছাড়া কোনো দ্বিতীয় বিকল্প নেই।

এবং প্রাকটিস করতে টাকা লাগে না। লাগে সময় আর প্রবল চেষ্টা। তাই এক কথাই, ভিডিও এডিটিং শিখতে কোনো টাকা না হলেও চলবে, আপনি ফ্রি তে ইউটিউব দেখে সমস্তটা শিখতে পারবেন। হয়তো ইন্সিটিউট বা কোর্স থেকে শিখলে আপনার সময় অনেক কম লাগতো, কিন্তু আহামরি বিশেষ তফাৎ কিছু থাকবে না। বরং আপনার ভাবনা চিন্তা, স্কিল সব কিছু কোনো কোর্স থেকে শেখা বা ইনস্টিটিউট থেকে শেখা মানুষের থেকে বেশি হবে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বললাম এ কথা।

কোন গুলি ভালো ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার

আজকাল তো সব কিছুই অনেক অ্যাডভান্স। তাই এ কথা অস্বীকার করা হয়তো যাবেনা যে মোবাইল দিয়ে ভালো ভিডিও এডিটিং অসম্ভব। হ্যাঁ, আমার বিরক্ত লাগে কারণ মোবাইল এ ভালো একটা ভিডিও এডিটিং করতে অনেকটা সময় লাগে এবং ছোট স্ক্রিন হওয়ায় সব কিছু বুঝে করা বেশ জটিল।

অনেকেই আছে যারা মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং করা শুরু করেছিল। এমনকি আমিও। পরে তারা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ভিডিও এডিটিং করা শুরু করে। যাতে ভিডিও ভালো হয়। আপনি শুরুর দিকে মোবাইল দিয়েই ভিডিও এডিটিং করতে পারেন। পরে রোজগার হওয়া শুরু হলে, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নেবেন।

final cut pro video editing tutorial in bengali

মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং করতে চাইলে আপনি VN, Inshot বা Kinemaster সফটওয়্যার এর সাহায্য নিতে পারেন। আমাদের ভারতবর্ষে Capcut নিষিদ্ধ, তাই সেই নাম আর নিলাম না। এছাড়াও, নিজের ভিডিও তে আধুনিক স্টাইল বা 3D এডিটিং করতে চাইলে আপনি Alight Motion সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন।

এইতো ছিল মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং। কিন্তু আপনার যদি রোজগার হয় বা আপনার যদি সামর্থ্য থাকে তবে অবশ্যই উচিৎ শুরুর দিন থেকেই ভালো প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে এডিটিং করার। কম্পিউটার এ এডিটিং করার জন্য আপনি Adobe Premiere Pro, Davinchi Resolve কিংবা Final Cut Pro সফটওয়্যার এর সাহায্য নিতে পারেন। এছাড়াও অতিরিক্তি মোশন ডিসাইন বা ৩ডি এডিটিং এর জন্য Adobe After Effects, Blender এর মতন সফটওয়্যার এর সাহায্য নিতে পারেন।

সবগুলি ইন্ডাস্ট্রি লেভেল সফটওয়্যার। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের ইউটিউব ভিডিওর জন্য Final Cut Pro এবং Adobe Premiere Pro ব্যবহার করে থাকি।

ভিডিও এডিটিং শিখে কত টাকা রোজগার করা সম্ভব

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে অনেক পারিপার্শিক বিষয়ের ওপর। তবুও বিষয়কে জটিল না করে একটু সহজে বোঝানোর চেষ্টা করি।

আপনি যদি নিজের চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য এডিটিং করেন এবং সেখানে যদি কোনো রোজগার না হয়, তবে আপনার ভিডিও এডিটিং করার পর রোজগার শূন্য। যদিও আপনার চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া আগামী দিনে বিরাট নাম করতেই পারে, তখন এই ভিডিও গুলো থেকেও রোজগার হবে। আবার যদি আপনার ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এখন রোজগার হচ্ছে তবে সেক্ষেত্রে আপনার এডিটিং কতটা ভালো, সেটাও একটা গুরুত্ব তো অবশ্যই রাখে আপনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পেছনে।

ভিডিও এডিটিং এমন এক স্কিল যা সবার জন্য নয়। তাই এই স্কিল যে রপ্ত করতে পারবে, তার তো চাহিদা থাকবেই। একজন ব্যক্তি ভিডিও এডিটিং শিখে নিজের চ্যানেল এর জন্য এডিট করতে পারেন, কিংবা কোনো চাকরি বা ফ্রীল্যানসিং করেও রোজগার করতে পারেন। সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিজের ওপরেই।

আপনি যদি কোনো ভালো কোম্পানিতে চাকরি করেন তবে সেক্ষেত্রে আপনার কোম্পানি অনায়াসে আপনাকে মাস গেলে ৪০০০০-৫০০০০ টাকা মাইনে দেবে। যদিও আপনার কোম্পানি আপনার করা এডিট থেকে অনেক বেশি টাকা রোজগার করবে এবং তার থেকেও বেশি রোজগার বা জনপ্রিয়তা পাবে সেই ক্রিয়েটর বা ব্যক্তি যার জন্য আপনি ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটি এডিট করেছেন।

রইলো বাকি ফ্রীল্যানসিং। আপনি কোনো কোম্পানির জন্য কাজ না করে শুরু থেকেই ফ্রীল্যানসিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে। কারণ কোল্ড ইমেইল বা আউটরীচ, সোশ্যাল মিডিয়া তে নিজের কাজের কথা বলতে হবে এবং শুরুর দিকে অনেক কম টাকায় কাজ করতে হবে। ধীরে ধীরে ক্লাইন্ট আপনার কাজ পছন্দ করলে, আপনার নাম ডাক একটু বাড়লে আপনি নিজের পারিশ্রমিক বাড়াতে পারবেন।

যারা ফ্রীলান্স ভিডিও এডিটর এবং শুধু মাত্র প্রিমিয়ার প্রো দিয়েই এডিটিং করে, তারা সাধারণত শুরুর দিকে লং ভিডিওর ক্ষেত্রে প্রতি মিনিট ভিডিও এডিটের জন্য ১০০ টাকা নিয়ে থাকে। এবং শর্ট ভিডিও তে যেহেতু এক দেড় মিনিটের মধ্যে হাই এনগেজিং বা ফাস্ট পেস ভিডিও এডিট করতে হয়, তাই সেখানে ৫০০ টাকা মতন নিয়ে থাকে। যদিও এর থেকে বেশি হতেই পারে। এই সমস্ত কিছু নির্ভর করছে, আপনার স্কিল, আপনি কার জন্য এডিট করছেন, তার রোজগার ইত্যাদির ওপর।

কোন ইউটিউব চ্যানেল গুলি থেকে শিখবো ফ্রী তে ভিডিও এডিটিং

যদি বলি ভাষা নির্বিশেষে ভিডিও এডিটিং শেখার ইউটিউব চ্যানেলের নাম, তবে হয়তো শেষ হবে না। আবার সব ভালো চ্যানেল এর নাম আমার মনেও নেই। আমি নিজেও যখন কিছু শিখি তখন যা সামনে আসে সব দেখতে থাকি, আর দু একজনের বোঝানোর পদ্ধতি যদি ভালো লেগে যায় তবে তাদের আগেকার সমস্ত ভিডিও দেখা শুরু করি। আপনিও চাইলে সেরকমটা করতে পারেন। সেরকম দেখতে গেলে আমার পছন্দের কিছু ইউটিউব চ্যানেল যা থেকে আপনি ভিডিও এডিটিং শিখতে পারবেন তা হলো, Tharun Speaks, Dope Motions, Akash Majumder ইত্যাদি। তবে আপনি চাইলে এই চ্যানেল গুলিও ফলো করতে পারেন,

  1. Bart_VFX
  2. Tausif Khalid
  3. Premium Hustlers
  4. NSB Pictures
  5. Jobayer Hossen
  6. James Prince

মনে রাখবেন টিউটোরিয়াল দেখে তখনি আপনার মনে থাকবে যখন আপনি কোনো সমস্যার উত্তর খুঁজছেন এবং সমাধান পাওয়া মাত্র নিজের এডিটিং এ তা কাজে লাগাবেন। এছাড়া আমি মনে করি, ভিডিও এডিটিং শেখার সব থেকে ভালো পদ্ধতি হলো যেসমস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভালো এডিটিং করে তাদের ভিডিও বারবার দেখে নিজেও সেরকম এডিটিং করার চেষ্টা শুরু করা, নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা। ব্যাস এটুকুই।

কিভাবে পাবো ভিডিও এডিটিং এর জন্য ক্লায়েন্ট

ভিডিও এডিটিং এর ক্লায়েন্ট এর জন্য আপনি বিভিন্ন রকম পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। যেমন, নিজে ক্লায়েন্ট এর কাছে গিয়ে বলতে পারেন, অথবা ক্লায়েন্ট আপনার কাজ দেখে আপনাকে যোগাযোগ করতে পারে কিংবা ক্লায়েন্টকে নিজের পোর্টফোলিও ও কাজের দক্ষতা দেখিয়ে ইমেইল করতে পারেন। এই পদ্ধতি গুলোকে বলা হয় লিড জেনারেশন। একটাকে বলে ইনবাউন্ড লিড, অন্যটাকে আউটবাউন্ড লিড, আবার কোল্ড ইমেইল, ওয়ার্ম ইমেইল ইত্যাদি বিভিন্ন নাম রয়েছে।

মনে রাখবেন ফ্রীল্যানসিং এর সেই যুগ আর নেই যেখানে আপনি Upwork, Freelancer কিংবা Fiverr এ গিয়ে একাউন্ট বানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ক্লায়েন্ট পেতে শুরু করলেন। এখন কম্পিটিশন চারিদিকে বেশি। তাই সেখানে নতুনদের জন্য কাজ পাওয়া একপ্রকার না এর সমান। তবে আপনি কিভাবে ভিডিও এডিটিং ক্লায়েন্ট পাবেন?

প্রথমেই চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব ভালো ভিডিও এডিটিং শেখার। টুল ম্যাটার করে না, আপনার কাজ করে। তাই সফটওয়্যার, ভালো কম্পিউটার ইত্যাদি ভুলে যান। শুধু কাজটা মন দিয়ে শিখুন। এরপর কিছু স্ক্রিপ্ট লিখুন বা অন্যের স্ক্রিপ্ট ও কপি করতে পারেন, অসুবিধে নেই। তারপর নিজের কিংবা কোনো বন্ধু বা বাড়ির কাউকে নিয়ে ভিডিও রেকর্ড করুন ও তারপর লেগে যান এডিটিং এ। শুরুর দিকে আপনি এডিটিং স্টাইল কপি করতেই পারেন। এমনকি ক্লাইন্ট ও আপনাকে বলবে অমুক এর মতন এডিটিং করতে, কিন্তু নিজের স্টাইল বা নতুনত্ব কিছু আনার চেষ্টা করতে থাকবেন, তার ফলে যদি আপনার ভাবনার এডিটিং ভাইরাল হয়ে যায়, তবে রাতারাতি আপনিও ভাইরাল।

এরপর কোনো ফ্রি ওয়েবসাইট এ গিয়ে বা আপনার সামর্থ্য থাকলে একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে নিজের কাজ সেখানে আপলোড করুন। তারপর কিভাবে এডিটিং করছেন, আপনার গল্প, ভিডিও নিয়ে কথা, মানুষকে এডিটিং শেখানোর ব্যাপারে পোস্ট এবং এডিটিং এর আগে ও পরে ইত্যাদি ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও লিংকডইন এ পাবলিশ করতে থাকুন। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই ক্লায়েন্ট আপনার কাজ দেখবে এবং ভাল লাগলে তারাই আপনাকে মেসেজ করবে।

এছাড়াও কোনো বিশেষ ক্লায়েন্ট এর সাথে আপনার কাজ করার ইচ্ছে থাকলে আপনি নিজে থেকেও তাকে মেসেজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। সবকিছুই করা যায়। এবং সব কিছু দাঁড়িয়ে আছে আপনার দক্ষতা, এডিটিং করার ক্ষমতা ইত্যাদির ওপর।

প্রিমিয়ার প্রো নাকি দাভিঞ্চি রিসলভ – কোনটি বেশি ভালো

যারা ভিডিও এডিটিং নিয়ে টুকটাক খবর রাখে তারা জানে, এখন গোটা ইন্টারনেট তোলপাড় একটা তর্কের ওপর। কোন সফটওয়্যার বেশি ভালো, প্রিমিয়ার প্রো নাকি দাভিঞ্চি রেসল্ভ? এর উত্তর বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকম। কেও নিজের পছন্দের সফটওয়্যার কে এগিয়ে রাখে আবার কেও যুক্তি দিয়ে বোঝায় কোনটি ভালো এবং কেনো। যদিও আমার বক্তব্য এই নিয়ে অন্য।

আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের ভিডিও এডিটিং করি ফাইনাল কাট প্রো সফটওয়্যার দিয়ে। কিন্তু পরে গিয়ে লক্ষ্য করলাম নিজের ভিডিও এডিটিং এজেন্সী শুরু করতে চাইলে আমাকে সেইসব সফটওয়্যার শিখতে হবে যেগুলি বাকি সবাই ব্যবহার করছে। তাই আমি প্রিমিয়ার প্রো, আফটার এফেক্টস ব্যবহার করা শুরু করি। আবার দাভিঞ্চি অন্যদের ভালো লাগলেও, আমার অতটা পোষায় না।

আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতা থেকে এটুকুই বলবো Adobe আজকেও সবার চেয়ে এগিয়ে, তাই শিখতেই যদি হয়, সবার আগে Adobe দিয়েই শুরু করুন। রইলো বাকি, বাকি সফটওয়্যার এর কথা। তবে সেক্ষেত্রে বলে রাখি, যে একটা সফটওয়্যার শিখতে পারবে সে বাকি সব অনায়াসে শিখে ফেলবে।

ভিডিও এডিটিং শিখে কিভাবে নিজের স্টার্টআপ শুরু করা যাবে

আমি আমার কেরিয়ার শুরু করি ব্লগিং দিয়ে। ভালোই রোজগার হচ্ছিল। ঘর, জায়গা, গাড়ি, দামি ফোন ইত্যাদি সব করি এই ব্লগিং দিয়েই। কিন্তু এই কিছু মাস আগে ব্লগিং বুঝিয়ে দেয় সে আর আগের মতন সহজে সব কিছু দেবে না। সময় থাকতে অন্য প্রফেশন ভেবে রাখতে। তাই আমিও ভাবতে থাকি, কি করবো আবার?

অনেক ভেবে বুঝলাম এমন কিছু করি যেটাই খাটনি বেশি হলে হোক কিন্তু রিস্ক যেন না থাকে। উত্তর এলো ভিডিও এডিটিং। তার কারণ কেও তার ইউটিউব চ্যানেল এ একটা ভিডিওতে কয়েকটা লাইন ভুল বললে তার জীবন শেষ, কিন্তু যে ব্যক্তি সেই ভিডিও এডিট করেছে তাকে কেও কিছু বলবে না, অথচ সে কিন্তু ভিডিও এডিটিং করে পারিশ্রমিক নিয়েছে। তাই ভিডিও এডিটিং এ খাটনি থাকলেও, রিস্ক নেই। আমি এরকম মনে করি।

এবার আসি ভিডিও এডিটিং করে কিভাবে নিজের স্টার্টআপ শুরু করবেন। বেশ, দেখুন, আপনাকে যেটা করতে হবে তা হলো বিদেশী ক্লায়েন্ট বা নামি দামি ক্লায়েন্ট জোগাড় করা। এরপর তাদের ভিডিও তে ভালো অ্যানিমেশন, মোশন গ্রাফিক্স ইত্যাদি যুক্ত করে এডিটিং করতে বেশ কিছুদিন সময় তো লাগবেই।

এখন একটা ভিডিও এডিট করতে আপনার যদি ৪ দিন লাগে, তবে সারা মাসে আপনি হয়তো ৭টি ভিডিও এডিট করতে পারবেন। অথচ একটা ক্লায়েন্ট বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সারা মাসে ৭ এর বেশি ভিডিও আপলোড করে। তাই আপনার কাছে ক্লায়েন্ট বেশি আসলে, আপনাকে আরও এডিটর নিতে হবে, আরও ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নিয়ে নিজের ছোট্ট স্টার্টআপ এর মতন শুরু করা যাবে। তাদেরকে মাস গেলে মাইনে দিয়ে নিজের কোম্পানি অনায়াসে চালানো যাবে। কি তাই না?

ভিডিও এডিটিং করে কতদিনে এক কোটি রোজগার সম্ভব

এখনকার যুগে এমনি একটা শর্ট ভিডিও এডিট করতে নতুন এডিটররা ৫০০ টাকা অবধি নিয়ে থাকে। আবার সেই শর্ট ভিডিওটাতে যদি মোশন গ্রাফিক বা অ্যানিমেশন থাকে তবে তার এডিটর ২০০০, ৩০০০ কিংবা ৫০০০ টাকা দাবি করতে পারে। যদিও বিদেশী ক্লায়েন্ট না হলে এতো বেশি টাকা আমাদের দেশে শর্ট ভিডিওতে খুব কম ক্রিয়াটর দেয়। সে যায় হোক।

এছাড়াও, একটা লং ভিডিও অর্থাৎ ১০-১২ মিনিট এর ইউটিউব ভিডিও ক্ষেত্রে নতুন এডিটররা প্রতি মিনিটের জন্য ১০০-২০০ টাকা নিতে থাকে। আবার তাতেই যদি মোশন গ্রাফিক, অ্যানিমেশন, ৩ডি ইত্যাদি থাকে তবে তার জন্য প্রতি মিনিটেই ৫০০-১০০০ টাকা পাওয়া যেতে পারে।

আমি একটা ভিডিও এডিটর এর সাথে এই কিছুদিন আগে কথা বলছিলাম। যে সাধারণত শর্ট ভিডিও এডিট করে এবং আফটার এফেক্টস এর মোশন গ্রাফিক, অ্যানিমেশন ইত্যাদির সাহায্যে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে একটা ১০ মিনিটের লং ভিডিও এডিট করতে কত নেবে। সে সরাসরি উত্তর দিলো $৬০০. অর্থাৎ প্রতি মিনিটের জন্য $৬০ যা কি না আমাদের ভারতীয় মূল্যে দাঁড়ায় ৫২০০ টাকা। ভাবতে পারছেন?

এই সমস্ত কিছু বিচার করে দেখলে, ভিডিও এডিটিং করে আপনার ১ কোটি টাকা রোজগার করতে এক বছর লাগবে। তার কম নয়। কারণ শুরুর দিকে ভালো ক্লায়েন্ট আপনি পাবেন না। অথচ আপনাকে এডিটিং চালিয়ে যেতে হবে। কারণ নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে, পোর্টফোলিও তৈরী করতে হবে আর প্রাকটিস করে যেতে হবে। তবে হ্যাঁ, একবার আপনার নাম, ডাক হয়ে গেলে প্রতি মাসে আপনি লক্ষ টাকা তো অনায়সে রোজগার করবেনই। চেষ্টা করুন, এডিটিং করার আর তারপর তা লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম এ দিতে থাকার।

FAQs: Video Editing in Bengali

1. ভিডিও এডিটিং এর জন্য সবচেয়ে ভালো সফটওয়্যার কোনটি?

মোবাইল দিয়ে এডিটিং করতে চাইলে ভিডিও এডিটিং এর জন্য সবচাইতে ভালো সফটওয়্যার হলো CapCut এবং VN. এছাড়াও Inshot ও Kinemaster ও বেশ ভালো। অন্যদিকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে ভিডিও এডিট করতে চাইলে Premiere Pro, Final Cut Pro কিংবা Davinchi Resolve সফটওয়্যার রয়েছে। আরও আধুনিক অ্যানিমেশন করতে চাইলে Apple Motion বা After Effects ব্যবহার করা যেতে পারে।

2. কোন ল্যাপটপ ভিডিও এডিটিং এর জন্য ভালো হবে?

ভিডিও এডিটিং করতে চাইলে ভালো গেমিং ল্যাপটপ নিতে হবে যেখানে SSD, RAM, GPU সব কিছু শক্তিশালী হতে হবে। আমি নিজে ম্যাকবুক ল্যাপটপ এবং কম্পিউটার দিয়ে নিজের ভিডিও এডিটিং করি।

3. সবচেয়ে বেশি মুভি এডিটিং করা হয় কোন সফটওয়্যারে?

সবচেয়ে বেশি মুভি এডিটিং হয় AVID নামক এক সফটওয়্যার এর সাহায্যে। যদিও দাভিঞ্চি, প্রিমিয়ার প্রো কিংবা ফাইনাল কাট প্রো দিয়েও সিনেমা এডিটিং এর কাজ করা হয়ে থাকে।

4. ভিডিও এডিটিং এর জন্য কোনটি ভালো ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ?

একই দামের মধ্যে বিচার করলে অনেক ভালো একটা ডেস্কটপ তৈরী হয়ে যাবে। তবে ভিডিও এডিটিং করে যেহেতু আজকাল নিজস্ব স্টার্টআপ শুরু করাও যায় তাই ল্যাপটপ হলে যেখানে সেখানে নিয়ে গিয়েও এডিটিং করা যাবে। যদিও এক কামরার রুমে বসে এডিটিং করতে চাইলে অবশ্যই ডেস্কটপ নেওয়া উচিৎ যাতে পরে ইচ্ছে মতন আপগ্রেড করা যায়।

উপসংহার (ভিডিও এডিটিং ভালো লাগলে, অবশ্যই শিখুন)

আজকের আর্টিকেলটি অনেক লম্বা হয়ে গেলো। জানি না এত বড় আর্টিকেল কে পড়বে। সে যেই পড়ুক, আমার ইউটিউব দর্শকবন্ধুরা তো পড়লো এই অনেক।

ভিডিও এডিটিং হলো এমন এক স্কিল যা ততটা সম্মান পাই না যতটা সে পাওয়ার যোগ্য। এমনকি ভিডিও এডিটররাও। আমরা যখন একটা সিনেমা দেখি, তখন দুঃখের মুহূর্তে কাঁদি, সুখের মুহূর্তে খুশি থাকি, হাসির দৃশ্যে হাসি। আর তারপর বলি দারুন অভিনয়, দারুন পরিচালনা কিন্তু একবারও জিজ্ঞেস করি না কে এই সিনেমা এডিট করলো। এডিটররা চিরকাল আড়ালে থেকে যাই, আর আড়ালে থেকেই হারিয়ে যায়।

কিন্তু এসব এর পরেও আজকের যুগে ভিডিও এডিটরদের একটা ভালো দিক আছে। তা হলো প্রচুর রোজগার এবং প্রচুর রোজগার এর সম্ভাবনা। এরই সাথে আপনি যদি নিজে যা এডিট করছেন, নিজের জীবন ইত্যাদি নিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরেন তবে আপনিও এডিটিং এর পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও পাবেন।

শিখুন, শিখতে থাকুন। ভিডিও এডিটিং হোক আর গ্রাফিক ডিসাইন, শিখতে তো আর টাকা লাগবে না। শিখুন, ভালো লাগলে এটাকেই নিজের আগামী কেরিয়ার করে তুলুন। কোনো সমস্যা হলে, আমি তো রয়েছি। কথা বলতে চাইলে আসুন আমার সোশ্যাল মিডিয়াতে, আর দেখতে থাকুন আমার ইউটিউব ভিডিও। ধন্যবাদ।

Leave a Comment