IPL Final 2025: গতকাল RCB vs PBKS ম্যাচটি আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সন্ধ্যে ৭:৩০ থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাঞ্জাব কিংস এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু এই আইপিএল মরশুমের একেবারে প্রথম থেকেই ভালো প্রদর্শন করে এসেছে।
এমনকি আইপিএল পয়েন্টস টেবিলের একেবারে শীর্ষে ছিল এই দুটি দল। একদিকে যেমন পাঞ্জাব কিংস কখনো আইপিএল ট্রফি জেতেনি, অন্যদিকে তেমনি রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু ও একবারও ট্রফি জিততে পারে নি। সুতরাং গতকালের ম্যাচে যে নতুন একটি দল চ্যাম্পিয়ন হতো, তা নিয়ে কোনো সন্দেহই ছিল না।
আইপিএলের কোয়ালিফাইয়ার ১ ম্যাচটি হয়েছিল রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু বনাম পাঞ্জাব কিংসের, যেখানে ব্যাঙ্গালুরু পাঞ্জাবের থেকে একেবারে একতরফা ম্যাচ জিতে নিয়ে, পৌঁছে যায় আইপিএল ২০২৫ এর ফাইনালে। অপরদিকে পাঞ্জাব কিংস আরো একটি সুযোগ পায় কোয়ালিফাইয়ার ২ খেলার।
সেই সুযোগেরই সৎ ব্যবহার করতে দেখা যায় পাঞ্জাব কিংসকে। অর্থাৎ আইপিএলের কোয়ালিফাইয়ার ২ ম্যাচে, ৫ বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে পাঞ্জাব কিংস হারিয়ে দেয় এবং আইপিএল ২০২৫ এর ফাইনালে ফের নিজেদের জায়গা করে নেয়। আইপিএল ফাইনাল ম্যাচটি ৩ জুন নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তাছাড়া ফাইনাল ম্যাচে, ৫ জন এমন প্লেয়ার ছিল যারা ধারাবাহিক ভাবে পর পর দুটি আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ খেলছিল। অর্থাৎ সেই সকল প্লেয়াররা আইপিএল ২০২৪ এর ফাইনাল ম্যাচেও প্রদর্শন করেছিল। পাঞ্জাব কিংস এই নিয়ে মোট দুইবার আইপিএল ফাইনালে, অপরদিকে রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর এই নিয়ে মোট চারবার আইপিএল ফাইনালে।
সুতরাং দুটি দলের কাছেই এই ম্যাচটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাছাড়া শেষ কিছু ফাইনাল ম্যাচের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেই সকল দলগুলি কোয়ালিফাইয়ার ১ ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায়, তারাই সেই বছর চ্যাম্পিয়ন হয়। কাজেই এবছর রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু সেই কাজ করেছে, তাই মনে করা হচ্ছিল ব্যাঙ্গালুরুই ট্রফি জিতবে।
যদিও পাঞ্জাব কিংস শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে দারুন প্রদর্শন করে এসেছে। পাঞ্জাব কিংস যে খুব সহজে হার মানবে না, তা তারা বিগত কিছু ম্যাচে খেলেই বুঝিয়ে দিয়েছে। সুতরাং আইপিএল ২০২৫ এর ফাইনাল ম্যাচটি যে দুটি দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু বনাম পাঞ্জাব কিংসের স্কোরকার্ড
| RCB | ১৯০/৯ | ২০ |
| PBKS | ১৮৪/৭ | ২০ |
রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু ইনিংসের সারাংশ
টসে জিতে পাঞ্জাব কিংস প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুকে প্রথমে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানায়। ব্যাঙ্গালুরুর দুই ওপেনার ফিল সল্ট এবং বিরাট কোহলি ব্যাটিং করতে নামেন। শুরুতে ফিল সল্ট দারুন কিছু শর্ট খেলে রান তুললেও, কায়িল জেমিসনের বলে ক্যাচ দিতে আউট হয়ে ফিরে যান। এরপর ব্যাটিং করতে নামেন ময়াঙ্ক আগরওয়াল, যিনি কিছুটা ভালো খেললেও যুজবেন্দ্র চাহালের বলে সুইপ শর্ট মারতে গিয়ে অর্শদ্বীপ সিংয়ের কাছে ক্যাচ আউট হন।
এরপর একে একে রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর সমস্ত ব্যাটারদের উইকেট তুলে নিয়ে থেকে পাঞ্জাব কিংসের বোলাররা। যদিও মিডল অর্ডারে খেলতে নেমে লিয়াম লিভিংস্টন কিছু দারুন শর্ট খেলেন, তিনি ১৫ বলে ২৫ রান করেন এবং ২টি ছক্কা মারেন। পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরুর জিতেশ শর্মা ১০ বলে ২৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে যান, তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৪০.০০, এবং তিনি ২টি চার, ২টি ছক্কা মেরে ব্যাঙ্গালুরুর রানকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যান।
রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে কোনো ব্যাটারই ফাইনাল ম্যাচে বড় কোনো রান করতে পারেন নি। বিরাট কোহলি সামলে খেললেও শেষমেশ আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান, তিনি ৩৫ বলে ৪৩ রানের একটি ইনিংস খেলেন। অবশেষে ২০ ওভারের শেষে রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর স্কোর গিয়ে দাড়ায় ১৯০ রান, ৯ উইকেটের পতনে।
একের পর এক উইকেটের পতনের ফলে রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু ২০০ রানে পৌঁছতে পারেনা। এক্ষেত্রে পাঞ্জাব কিংসের বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হয়, তারা ফাইনাল ম্যাচে যেভাবে বোলিং করেছেন, বিশেষ করে কয়িল জেমিসন, আর্শদ্বীপ সিং, বৈশাক বিজয় কুমার। গতকালের রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু বনাম পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচে কয়িল জেমিসন এবং আর্শদ্বীপ সিং ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন, তাছাড়া বাকি বোলাররা ১টি করে উইকেট তুলেছেন।
পাঞ্জাব কিংসের ইনিংসের সারাংশ
ব্যাঙ্গালুরুর দেওয়া ১৯১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামেন পাঞ্জাব কিংসের দুই তরুণ ওপেনার প্রিয়াংশ অরোরা এবং প্রভসিমরন সিং। দুজনে মিলে পাঞ্জাবকে ভালো শুরু করে দিলেও শীঘ্রই উইকেট হারিয়ে ফিরে যান ড্রেসিং রুমের দিকে। এরপর ব্যাটিং করতে নামেন যশ হিংলিস এবং শ্রেয়াস আইয়ার, যদিও গতকালের ফাইনাল ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার সেভাবে প্রদর্শন করতে পারেননি, মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। অপরদিকে যশ হিংলিস ২৩ বলে ৩৯ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ১টি চার ও ৪টি ছয় হাঁকান।
তারপর ব্যাটিং করতে আসেন শশাঙ্ক সিং এবং নেহাল ওয়াদেরা। দুজনে সামলে খেলতে থাকেন, যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই নেহাল ওয়াদেরার উইকেটটি তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। এরপর পাঞ্জাবের একে একে উইকেট তুলে নিতে থাকে রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর বোলাররা। যদিও শশাঙ্ক সিং একেবারে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান, কিন্তু অনেকটাই শেষ দিকে তিনি বাউন্ডারি মারতে শুরু করেন, যখন আর কোনো সুযোগই ছিল না জেতার। তিনি ৩০ বলে ৬১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ৩টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন।
অবশেষে ২০ ওভারের শেষে পাঞ্জাব কিংসের স্কোর দাড়ায় ১৮৪ রান, ৭ উইকেটের পতনে। সুতরাং রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু ৬ রানে ম্যাচটি জিতে নেয়। শশাঙ্ক সিং শেষ ওভারে যশ হেজেলউডকে প্রথম বল থেকেই মারার চেষ্টা করতে থাকলে হয়তো ম্যাচেই ফলাফল আলাদা হতো, এমনকি ম্যাচ ড্র ও হতে পারত। যাইহোক ব্যাঙ্গালুরুর ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলো কাল। আইপিএল ২০২৫ এর চ্যাম্পিয়ন হলেন রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু।
পাঞ্জাব কিংস বনাম রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর ফাইনাল ম্যাচটি আপনাদের কেমন লাগলো এবং ব্যাঙ্গালুরুর ১৮ বছর পর ট্রফি জেতায় আপনারা কতটা আনন্দিত, তা আমাদের অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। তাছাড়া ক্রিকেট সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য, খবর, বিচার-বিশ্লেষণের জন্য আমাদের আজকেরআলোচনা ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন।
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। ক্রিকেট নিয়ে ভালোবাসা আমার ছোটবেলা থেকেই। ২০২৫ এর মে মাস থেকে আমি এই ব্লগে অন্যতম ক্রিকেট রাইটার হিসেবে যুক্ত হয়েছি।