SA vs AUS WTC Final 2025: অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকা করে দেখালো, জিতে দেখালো একটা ICC Trophy এবং ঘোচালো তাদের ওপর থেকে `চোকার্স’ এর ট্যাগ। বিগত কিছু বছরে বেশ কয়েকবার আইসিসি টুর্নামেন্টে ভালো খেলেও, ট্রফি জিততে সক্ষম হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ইতিহাস চিরকাল একইরকম থাকে না। ইতিহাস বদলায়। এবার বদলালো দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, তাদের প্রথম WTC ফাইনাল জেতার মাধ্যমে।
টানা দু বছর ধরে চলে একটা WTC চক্র এবং তারপর হয় ফাইনাল। প্রথম WTC ফাইনাল যেতে অস্ট্রেলিয়া, এবং রানার্স আপ হয় ভারতীয় দল। এবারও WTC ফাইনাল খেলছে সেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল অস্ট্রেলিয়া। তাই শক্তিশালী দল হবার কারণে, অধিকাংশ ক্রিকেটপ্রেমী ভেবে ছিল আরও একবার কাপ হয়তো অস্ট্রেলিয়া জিততে চলেছে। কিন্তু এরকমটা হয় না। চলুন শুরু থেকে বলা যাক।
WTC Final 2025 শুরু হয় ১১ই জুন ২০২৫ থেকে ইংল্যান্ড এর লর্ডসে। দুই দেশের অধিনায়ক তথা অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স এবং সাউথ আফ্রিকার টেম্বা বাভুমা শুরু করেন নিজেদের দল নিয়ে খেলা। প্রথমে ব্যাটিং করতে এসে অস্ট্রেলিয়া করতে সক্ষম হয় প্রথম ইনিংসে ২১২ রান, ৫৬ ওভার ৪ বল শেষে। অস্ট্রেলিয়ার তরফে প্রথম ইনিংসে সেরা খেলাটা খেলে স্টিভ স্মিথ এবং ওয়েবস্টার। স্মিথের ব্যাট থেকে এদিন আসে ৬৬ রান, এবং ওয়েবস্টার খেলেন ৭২ রানের এক ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা বোলিং বেশ ভালোই করেছিলো, যার কারণে মাত্র ৫৭ ওভার এর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার মতন একটা ব্যাটিং হেভি টীম থমকে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার তরফে সব থেকে ভালো বোলিং করে ৫টি উইকেট নেন কাগিসো রাবাডা এবং ৩টি উইকেট নেন মার্কো য়ানসেন। যদিও স্টিভ স্মিথ এর উইকেটটি তুলে নেন এইডেন মারকরাম।
অস্ট্রেলিয়ার এই রান এর লক্ষ্য মাথায় রেখে শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ব্যাটিং ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকাও এদিন ৫৮ ওভার এর মধ্যেই গুটিয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এর ৬টি এবং মিচেল স্টার্ক এর ২টি উইকেটের সাহায্যে মাত্র ১৩৮ রানেই শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস। প্রথম ইনিংসে সাউথ আফ্রিকার তরফে সব থেকে বেশি রান আসে বেডিংহাম এবং অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার ব্যাট থেকেই। যথাক্রমে ৪৫ এবং ৩৬ রান।
এই অবধি খেলাটা দুই দেশেরই ছিল, অধিকাংশ মানুষই ভাবছিলো জিতবে তো অস্ট্রেলিয়ায়। কারণ এত ভারী একটা দল, বারবার কি আর অল্প রান করে, আর তারপর ওদের যা শক্তিশালী বোলিং ইউনিট। ওদের পক্ষে হারা অসম্ভব। কিন্তু খেলার বাকি ছিল এখনও ৩দিনের বেশি। এবং তাই ভগবানও মনে মনে ভাবতে থাকেন, রথ ভাবে আমি দেব, পথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন অন্তর্যামী। এরপর শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। ব্যাট করতে নামেন দুই ওপেনার।
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে আরও কম রানে আটকে যায়। প্রথম ইনিংসে যেখানে ২১২ রান করতে সক্ষম হয়েছিল, দ্বিতীয় ইনিংসে করে মাত্র ২০৭ রান। এবং ৬৫ ওভার এর মধ্যেই শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। অবাক করার মতন হলেও, অস্ট্রেলিয়ার তরফে এই ইনিংসে সব থেকে বেশি রান আসে মিচেল স্টার্ক এর ব্যাট থেকেই। মিচেল স্টার্ক এদিন করেন, ১৩৬ বলে অপরাজিত ৫৬ রান। ভাবুন তো অবাক করার মতন নয় এই ঘটনা? জাগ্ গিয়ে। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার তরফে খুচরো খুচরো কিছু রান আসে, বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে। লাবুসেন ২২, স্টিভেন স্মিথ ১৩, আলেক্স কেরি ৪৩ এবং হাজলেউড ১৭ রান করতে সক্ষম হন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সব থেকে বেশি উইকেট তুলে নেন কাগিসো রাবাডা এবং লুঙ্গি এনগিডি। রাবাডা নেন ৪টি এবং এনগিডি ৩টি উইকেট।
তৃতীয় দিনের খেলা সবে শুরু হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তখনও বিশ্বাসী জিতছে তো অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু এরপর শুরু হয় এই ফাইনাল ম্যাচের মোড় ঘোরানো ইনিংস। যেখানে সবাই ভাবছিলো এইরকম একখানা পিচে কিভাবে এত রান করা সম্ভব? অস্ট্রেলিয়া পারলো না, সাউথ আফ্রিকা কি আর পারে নাকি? অসম্ভব। কিন্তু একটু একটু করে মানুষ পাই এই ফাইনাল ম্যাচের আসল আনন্দ, আসল মজা, টেস্ট ক্রিকেটের সেই পুরোনো উন্মাদনা।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওপেনিং করতে আসেন এইডেন মারকরাম এবং রায়েল রিকেলটন। দ্বিতীয় ইনিংসেও রিকেলটন ব্যর্থ হন এবং মাত্র ৬ রান করেই মিচেল স্টার্ক এর বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়ান ফিরে যান। উল্টো দিকে তখনও দাঁড়িয়ে এইডেন মারকরাম। সঙ্গ দিতে আসেন উইয়ান মালডার। এই উইয়ান মালডার ২৭ রান করেন এবং আবারও উইকেট তুলে নেন মিচেল স্টার্ক। এরপর ব্যাটিং করতে নামেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। এই বাভুমার আবার অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড। এতদিন অবধি যে কটা ম্যাচে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, একটাও নাকি হারেননি। এদিন খেলছিলেন হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়েই, হাঁটছিলেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। কিন্তু মনের মধ্যে জেদ ছিল, দেশের জন্য কিছু করার, আর তাই অধিনায়ক এর দায়িত্ব টা খুব ভালোভাবেই পালন করলেন।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হতে হতে এইডেন মারকরাম করেন ১৫৯ বলে অপরাজিত ১০২ রান এবং উল্টোদিকে বাভুমা থাকেন অপরাজিত ৬৫ রানে। হ্যাঁ, ওভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়ে এবং ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে অপরাজিত ৬৫ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার জেতার জন্য তখনও দুদিনে ৬৯ রান বাকি। খেলার রয়েছিল দুটি দিন। অস্ট্রেলিয়ার জেতার জন্য দরকার ছিলো ৮টি উইকেট। যা একপ্রকার অসম্ভবই ছিলো।
অবশেষে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হবার আগেই প্রথমবারের জন্য WTC Final জিততে সক্ষম হন দক্ষিণ আফ্রিকা। হার মানতে হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের প্রথম ICC Tournament জেতার স্বাদ দক্ষিণ আফ্রিকাও পাই। এই জয়ের অন্যতম কান্ডারি অবশ্যই এইডেন মারকরাম, টেম্বা বাভুমা এবং ভুলে গেলে চলবে না অসাধারণ তিন বোলার কাগিসো রাবাডা, মার্কো য়ানসেন এবং লুঙ্গি এনগিডি।

আমরা দেখলাম দুটো WTC Final এবং পেলাম দুটো নতুন চ্যাম্পিয়ন। আর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে ইংল্যান্ড বনাম ভারত টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজ এর মাধ্যমে ভারতীয় দলের নতুন WTC Cycle শুরু হবে। সম্পূর্ণ এক নতুন অধিনায়ক এবং এক তরুণ দল নিয়ে গেছে আমাদের দেশ, ইংল্যান্ড এর মাটিতে খেলতে। দেখার বিষয়, কেমন হয় সেই সিরিজ। আমরা তো আমাদের মতন আর্টিকেল লিখেই যাবো। আপনারা অবশ্যই আমাদের সঙ্গ দিয়েন। আজকের আর্টিকেল এখানেই শেষ করলাম। ভালো থাকবেন।
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। আমার নাম শুভম বিশ্বাস। আমি গত ৫-৬ বছর ধরে ব্লগিং করছি। এই ব্লগটা শুরু করেছি বাংলায় ক্রিকেট খবর এবং আইপিএল নিয়ে লেখার জন্য। ক্রিকেট আমার ছোটবেলা থেকেই একটা ভালোলাগার জায়গা তাই সেই ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে এই নতুন উদ্যোগ।