বিরাট কোহলি জীবনী | Virat Kohli Biography in Bengali

বিরাট কোহলি হলেন একজন ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। ৮ থেকে ৮০ সমস্ত ভারতীয় এক ডাকে চেনেন বিরাট কোহলি কে। অনেকে তাঁকে ভালোবেসে “কিং কোহলি” বলেও ডাকেন।

সবার প্রিয় এই তরুন ক্রিকেটার এর ঝুলিতে রয়েছে ‘অর্জুন’ ‘পদ্মশ্রী’ এর মত নানান পুরস্কার। ক্রিকেট জীবনে তাঁর তৈরি করা রেকর্ড গুলিও বিশেষ নজর কারে। এই নিবন্ধে আপনাদের ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বিরাট কোহলি এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী বর্ণনা করব। তুলে ধরব তাঁর জীবনের সমস্ত চড়াই উতরাই।

আরো পড়ুন : IPL 2025 RCB vs SRH: বদলে গেলো ম্যাচের ভেন্যু

বিরাট কোহলি জীবনী (Virat Kohli Biography in Bengali)

জন্ম ও শৈশব জীবন

বিরাট কোহলির জন্ম হয় ১৯৮৮ সালে ৫ নভেম্বর দিল্লিতে এক পাঞ্জাবী পরিবারে। তাঁর বাবার নাম স্বর্গীয় প্রেম কোহলি, যিনি পেশায় ফৌজদারি আইনজীবী ছিলেন এবং তাঁর মা সারোজ কোহলি একজন গৃহিণী। বিরাট কোহলির এক দাদা ও এক দিদি আছেন। বড়ো ভাই হলেন বিকাশ কোহলি এবং বড়ো বোন ভাবনা কোহলি। ছোট থেকেই বিরাটএর খেলাধুলার প্রতি প্রধানত ক্রিকেট এর প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাঁর এই শৈশব মনের আগ্রহ কে বাস্তবের রুপ দিতে প্রথম সাহায্য করেছিলেন তাঁর বাবা প্রেম কোহলি। 

বিরাট কোহলির বয়স 

বিরাট কোহলি ১৯৮৮ সালে জন্মগ্রহন করনে। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৬ বছর। 

শিক্ষা জীবন

ভারতের ক্রিকেট দলের এই প্রাক্তন অধিনায়ক কিং কোহলি বিশাল ভারতী পাবলিক স্কুলে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাঁরপর তিনি পশ্চিম বিহারের সেভিয়ার কনভেন্ট স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি ক্রিকেট শিক্ষা কে ও তিনি সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে পশ্চিম দিল্লি ক্রিকেট একাডেমিতে গিয়ে রাজকুমার শর্মার অধীনে থেকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে ক্রিকেট শিক্ষা শুরু করেন। 

আরো পড়ুন : ঋষভ পান্তের এরকম খারাপ খেলার পেছনে কারণ কি? ক্যাপ্টেন্সির চাপ নাকি এত বেশি টাকার প্লেয়ার হিসেবে দুশ্চিন্তা?

প্রথম জীবন

বিরাট কোহলির জীবনের এই অধ্যায় টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি অনেক টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহন করেছেন, যেমন ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১ প্রতিযোগিতা, ২০০৩ সালে লি উমিগ্রার ট্রফি টুর্নামেন্ট, ২০০৪ সালে বিজয় মার্চেন্ট ট্রফি। এমনকি তিনি ২০০৫বিজয় মার্চেন্ট ট্রফি জেতার জন্য দিল্লিকে সাহায্য ও করেন। এই টুর্নামেন্টে তিনি শীর্ষস্থান দখল করেন “ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ” সিরিজ লাভ করেন। আর সেই পুরস্কার তাকে ভারতীর টিমের সেরা বোলার আশিস নেহারা দিয়েছিলেন।

এরপর তিনি ২০০৬ সালে ভারত আন্ডার-১৯ এক্স টি এক্স স্কোয়াডে(cricket 19 ps4) খেলায় ও স্থান করে নেন। এই টুর্নামেন্ট চলা কালীন ১৮ ই ডিসেম্বর ২০০৬ সালে তাঁর বাবা প্রেম কোহলির ব্রেন স্ট্রোকে অকাল মৃত্যু ঘটে। এই দূঃ সংবাদ বিরাট কে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দেয়। তাঁর বাবা ছিল তাঁর জীবনে আদর্শ। কিন্তু তিনি ভেঙে না পরে ক্রিকেটকে নতুন করে সিরিয়াস ভাবে নেন, খেলার সময়কে অগ্রাধিকার দেন এবং সম্পূর্ণরূপে খেলাধুলায় নিজেকে উৎসর্গ করেন।

২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন তিনি এবং ভারতকে তিনি বিজয়ী শিরোপা ও এনে দেন।  এর কয়েকমাস পরেই মাত্র ১৯ বছর বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের হয়ে ওয়ান ডে ম্যাচে তাঁর অভিষেক হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা বিজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। 

খেলোয়াড়ী জীবন

২০১১ সালের সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বিজয়ী ভারতীয় দলের অংশ হওয়ার পর তিনি ২০১৩ সালে  ওয়ান-ডে ব্যাটসম্যানদের আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম স্থানে পৌঁছে যান। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ গুলতেও কোহলি সাফল্য নিয়ে আসেন। ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে দু-দুবার তিনি ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিলেন।

এরপর কোহলি ওয়ানডে ম্যাচে দলের সহ-অধিনায়ক নিযুক্ত হয়ে টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির টেস্ট অবসর গ্রহণের পর। এখানেই শেষ নয় ,২০১৭ সালের প্রথম দিকে মহেন্দ্র সিং ধোনি অধিনায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করার পরে তিনি ওয়ানডেতেও অধিনায়ক হন।

ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে মহেন্দ্র সিং ধোনি’র পরিবর্তে তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর হয়ে খেলেন, এবং ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দলের অধিনায়ক ছিলেন। বিরাট কোহলি ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অনতম সফল অধিনায়কদের মধ্যে একজন।

ঘরের মাটিতে তো বটেই বিদেশে গিয়ে ও তিনি একের পর এক দেশকে হারিয়ে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন। একবার তিনি অপ্রতিরদ্ধ অস্ট্রেলিয়াকে পর পর তিনটি সিরিজে হারান। ভারতের হয়ে তিনি মোট ৬৮ টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই গুলির মধ্যে ৪০ টি ম্যাচ তিনি জিতেছেন, যা এখনও কোন ভারতীয় ক্যাপ্টেনদের মধ্যে সর্বাধিক। ২০২৫ সালের ১২ই মে বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন। 

বিরাট কোহলির রেকর্ডস

বর্তমান সময়ে বিরাট কোহলি হলেন ভারতের তথা বিশ্বের একজন অন্যতম মহান ক্রিকেটার। তাঁর ক্রিকেট জীবনে তিনি বহু রেকর্ড ভেঙেছেন এবং নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন। 

টেস্ট ক্রিকেটে রেকর্ড

  • ৯,২৩০ টেস্ট রান – ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ টেস্ট রান।
  • ৩০ টেস্ট সেঞ্চুরি – সমস্ত ক্রিকেটার দের মধ্যে ১৬তম স্থানে, ভারতীয়দের মধ্যে চতুর্থ।
  • ৭টি ডাবল সেঞ্চুরি – সমস্ত ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরি। 
  • অধিনায়ক হিসেবে ৪০টি টেস্ট জয় – একজন ভারতীয় অধিনায়ক হিসাবে সর্বোচ্চ টেস্ট জয়।
  • ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর – দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৫৪* (২০১৯)।
  • অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে জোড়া সেঞ্চুরি – অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক।
  • এক বছরে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার(২০১৬)।

ওয়ানডে ক্রিকেট রেকর্ড

  • ৫১টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি – ওয়ানডে ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি।
  • ১৪,১৮১ রান – ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
  • ক্যারিয়ার গড় ৫৭.৮৮ – ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ (সর্বনিম্ন ৫,০০০ রান)।
  • ৮,০০০, ৯,০০০, ১০,০০০, ১১,০০০, ১২,০০০, ১৩,০০০ এবং ১৪,০০০ ওয়ানডে রানের দ্রুততম সংগ্রহ।
  • একটি দলের বিরুদ্ধে সর্বাধিক সেঞ্চুরি – শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০টি।
  • অসাধারণ চেজিং ব্যাটসম্যান – ওয়ানডে রান তাড়া করে ক্যারিয়ার গড় ৬৪.৫০ (ভারত যখন জিতেছিল তখন ৮৯.৫০)।
  • শতক করার পর ৮৭.৫% ওয়ানডে জয় – তাঁর প্রথম ৫০টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির মধ্যে ৪২টিই ভারত জিতেছে।
  • একটি ওয়ানডে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সর্বাধিক প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ পুরস্কার।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট রেকর্ড

  • ৪,১৮৮ টি-টোয়েন্টি রান – টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
  • গড় ৪৮.৬৯ – ৪,০০০+ টি-টোয়েন্টি রান করা খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ক্যারিয়ার গড়।
  • ৩৮টি অর্ধশতক – টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বাধিক।
  • ৩,৫০০ রান করা দ্রুততম – ৯৬টি ম্যাচ।
  • ৭টি সিরিজ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার – টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বাধিক।
  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান – বিভিন্ন সংস্করণে ১,১০০-এর বেশি রান।
  • দুটি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (২০১৪ এবং ২০১৬)।

আইপিএল রেকর্ড

  • ৮,৫০৯ রান – আইপিএল ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।
  • ৮টি আইপিএল সেঞ্চুরি – যেকোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।
  • একটি দলের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ – আরসিবির হয়ে ২৬৩টি খেলা।
  • ২০১৬ সালের আইপিএলে ৯৭৩ রান – এক আইপিএল মরশুমে সর্বাধিক রান।
  • একটি সিজনে ৪টি সেঞ্চুরি (২০১৬) – একটি রেকর্ড।
  • আইপিএলে ১,০০০ বাউন্ডারি মারা প্রথম খেলোয়াড়।
  • অরেঞ্জ ক্যাপ বিজয়ী – ২০১৬ এবং ২০২৪ সালের আইপিএলের সর্বোচ্চ স্কোরার।
  • দ্রুততম ৬,০০০ এবং ৭,০০০ আইপিএল রান।

বিরাট কোহলির মোট সেঞ্চুরি

২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত, বিরাট কোহলি তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মোট ৯০টি সেঞ্চুরি করেছেন।

  • আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি – ৮২
  • টেস্ট ম্যাচ: ৩০টি সেঞ্চুরি
  • একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই): ৫১টি সেঞ্চুরি
  • টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (টি-টোয়েন্টি): ১টি সেঞ্চুরি
  • ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সেঞ্চুরি – ৮টি

আর্থিক প্রতিপত্তি

বিরাট কোহলির মত একজন সফল ক্রিকেটার এর আর্থিক প্রতিপত্তি অবশ্যই নজর আকর্ষণীও হবে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী বিরাট কোহলি বিশ্বের সমস্ত ধনি ক্রিকেটার দের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। যার আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ ৯২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ₹১,০২০ কোটি), যা তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার, প্রচারণা এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে সঞ্চিত। বছরে তাঁর আয় প্রায় ১২১ কোটি টাকা।

আইপিএল খেলার বিনিময়ে প্রতি বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা বেতন নেন। মুম্বাই তে তাঁর ৩৪ কোটি মূল্যের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট আছে সঙ্গে গুরুগ্রাম একটি বিলাসবহুল বাংলো ও মহারাষ্ট্রএর আলিবাগে একটি সমুদ্রতীরবর্তী ভিলা ও আছে। এছাড়া কোহলির চিত্তাকর্ষক গাড়ির সংগ্রহ ও রয়েছে। 

ব্যক্তিগত জীবন

২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে কোহলি ও বলিউডের অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মার  প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়। এরপর তারা ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ইতালিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

 ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি বিকালে বিরাট কোহলি প্রথম কন্যা সন্তানের পিতা হন। তাঁর মেয়ের নাম রাখা হয় ভামিকা কোহলি।

বিরাট কোহলির প্রাপ্ত বিশেষ পুরস্কার

জাতীয় পুরস্কার

  • অর্জুন পুরস্কার – ২০১৩
  • পদ্মশ্রী – ২০১৭
  • খেল রত্ন পুরস্কার – ২০১৮

আইসিসি পুরস্কার

  • আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার – ২০১৭, ২০১৮
  • বর্ষসেরা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার – ২০১২, ২০১৭, ২০১৮, ২০২৩
  • বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার – ২০১৮
  • স্পিরিট অফ ক্রিকেট পুরস্কার – ২০১৯
  • আইসিসি দশকের সেরা ক্রিকেটার – ২০১১–২০২০

টুর্নামেন্ট সম্মান

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় – ২০১৪, ২০১৬
  • ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় – ২০২৩
  • আইপিএল অরেঞ্জ ক্যাপ – ২০১৬, ২০২৪

অন্যান্য স্বীকৃতি

  • উইজডেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার – ২০১৬–২০১৮
  • তার নামে নামকরণ – দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে
  • মাদাম তুসোর মোমের মূর্তি – ৪টি দেশে

বিরাটকে নিয়ে বিতর্ক

  • ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের উদ্দেশ্য করে মধ্যমাঙ্গুলি

ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়, কোহলি প্রতি করা দুর্ব্যবহারের জবাবে সিডনির দর্শকদের কাছে তার মধ্যমাঙ্গুলি দেখিয়েছিলেন। এই অপরাধে আইসিসি তাকে তার ম্যাচ ফ্রি-এর ৫০% জরিমানা করেছিল।

  • ২০১৭ সালে ডিআরএস বিতর্ক – বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি

কোহলি অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে স্টিভ স্মিথকে ডিআরএস কলের জন্য ড্রেসিংরুমের সহায়তা নেওয়ার অভিযোগ এসেছিল। এটি একটি কূটনৈতিক ক্রিকেট বিতর্কে পরিণত হয়েছিল, যদিও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

  • ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারের পর সাংবাদিকদের সাথে সংঘর্ষ

২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে ভারতের হারের পর, একজন সাংবাদিক কোহলিকে দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে পরামর্শ দেন যে রোহিত শর্মার পরিবর্তে ঈশান কিষাণের খেলা উচিত ছিল। কোহলি, দৃশ্যত অবাক হয়ে যায়, এটিকে “খুব সাহসী প্রশ্ন” বলে অভিহিত করেন এবং রোহিতের অতীত পারফরম্যান্স তুলে ধরে তার সিদ্ধান্তের পক্ষে অনড় থাকেন। 

  • ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার স্যাম কনস্টাসের সাথে ঝগড়া 

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বক্সিং ডে টেস্টের সময়, ১৯ বছর বয়সী নবাগত ক্রিকেটার স্যাম কনস্টাসের সাথে অনিচ্ছাকৃত শারীরিক সংস্পর্শের জন্য কোহলিকে তার ম্যাচ ফ্রির ২০% জরিমানা করা হয়েছিল এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল। খেলার সময় কোহলি কনস্টাসকে কাঁধে চাপ দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে, যার ফলে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে সমালোচনা এবং আলোচনা শুরু হয়।

  • ২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা নিয়ে সমালোচনা 

সম্প্রতি ২০২৫ সালের মে মাসে, কোহলি ভারতের ইংল্যান্ড সফরের আগে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন। রোহিত শর্মার সাম্প্রতিক অবসরের সাথে সাথে হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিসিআই কার্যকরভাবে পরিবর্তন পরিচালনা না করার জন্য সমালোচনার মুখে পড়ে।

FAQs: Virat Kohli Biography in Bengali

১। বিরাট কোহলি কে?

বিরাট কোহলি একজন ভারতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড়। তিনি একজন ডান হাতি ব্যাটসম্যান।

২। বিরাট কোহলির জন্ম কোথায় হয়?

বিরাট কোহলির জন্ম হয় দিল্লিতে ৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে। 

৩। বিরাট কোহলির পিতার নাম কী?

বিরাট কোহলির পিতার নাম স্বর্গীয় প্রেম কোহলি। তিনি একজন উকিল ছিলেন। 

৪। বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি সংখ্যা কত?

এখনও পর্যন্ত বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি সংখ্যা ৯০।

৫। বিরাট কোহলির স্ত্রীর নাম কী?

বিরাট কোহলির স্ত্রীর নাম আনুষ্কা শর্মা।

৬। বিরাট কোহলির উচ্চতা কত?

বিরাট কোহলির উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি ।

৭। বিরাট কোহলি কত সালে ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক হোন?

বিরাট কোহলি ২০১৪ সালে ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক হোন ।

Leave a Comment