বিরাট কোহলিও অবশেষে ঘোষণা করে দিলেন টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা। এই সিদ্ধান্ত কি বিরাট এর নিজের নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো চক্রান্ত? সিদ্ধান্ত যে কারণেই হোক, আমরা দর্শকেরা, বা বিরাট কোহলির একনিষ্ঠ ভক্তগণ বিরাট এর এই সিদ্ধান্তে যে একদমই খুশি নয়, এ কথা হলফ করে বলা যায়।
আর মাত্র ৭০০ এর কিছু বেশি রান। ব্যাস, তাহলে ১০০০০ টেস্ট রান এর রেকর্ড গড়ে তুলতে পারতো বিরাট কোহলি। কিন্তু না। তিনি তেমনটা করেননি। করেননি সেটা কি একদমই নিজের ইচ্ছেই? কি জানি, সন্দেহ থেকেই যায়। মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ভারতীয় লাল বলের ক্রিকেট অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের খবর ঘোষণা করলেন স্বয়ং বিরাট কোহলি নিজেই, নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল এর মাধ্যমে। ঘরের মাঠে দুটি খারাপ সিরিজ এবং একটি অস্ট্রেলিয়া সিরিজ যে তিন তিনটে বিরাট নাম ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরিয়ে দেবে একথা খুব কম মানুষেরই ধারণা ছিল। প্রথমে রবিচন্দ্রন আশ্বিন তারপর রোহিত শর্মা এবং এখন বিরাট কোহলি। দেখার বাকি রবীন্দ্র জাদেজাও এই দলে সামিল হয় কি না।
মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার কথা মনে আছে? কোনো বড় প্রেস রিলিস নেই, কোনো বড় ম্যাচ খেলে রিটায়ারমেন্ট নেই, খালি একটা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট। ব্যাস, ওটুকুই ওই বড় নামের জন্য যথেষ্ট। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিও ওই একই পথে হাঁটলেন। কেবল একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট।
বিরাট কোহলি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ভারতীয় সাদা জার্সি এবং লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন এবং কিছুটা লম্বা চওড়া ওই পোস্টে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করেন। সব শেষে লেখেন, ”#269 signing off”.
বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা দুজনেই এবার শুধু ODI ক্রিকেট এবং আইপিএল খেলাতেই মন দেবেন। রোহিত শর্মা এখনো ODI ক্রিকেটের অধিনায়ক এবং বিরাট শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবেই খেলবেন। দুজনেই পাখির চোখ করে রাখছেন আগামী ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ কেই।
বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেটের রান ১০০০০ এর একটু কম, যার মধ্যে রয়েছে ৩০টি সেঞ্চুরি। ১৪ বছরের এই লম্বা টেস্ট কেরিয়ারে বিরাট কোহলি খেলেছে ১২৩টি টেস্ট ম্যাচ। যার মধ্যে ৬৮টি ম্যাচ খেলেছেন একজন ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে। বিরাট কোহলির রয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে ৪৬.৮৫ গড়ে ৯২৩০ রান।
কোহলির শেষ টেস্ট সেঞ্চুরি এসেছিলো নভেম্বর ২০২৪ এ, পার্থ স্টেডিয়ামে। সেই ম্যাচে বিরাট কোহলির রান ছিল ১০০ নট আউট। কোহলির সর্বশ্রেষ্ঠ টেস্ট ইনিংস এসেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পুনের স্টেডিয়ামে ২০১৯ সালে ২৫৪ নট আউট। জুলাই ২০২৩ এর পর নভেম্বর ২০২৪ এই বিরাট কোহলির প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি আসে এবং কোহলির টেস্ট গড় রান ৫০ থেকে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ২০১৮/১৯ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে তাঁর নেতৃত্বে ভারত প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়লাভ করে।
কোহলি ২০১১ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ডেব্যু করেন এবং ২০১৪ তে প্রথম অধিনায়ক হন। প্রথমবার টেস্ট অধিনায়ক হয়েই একই টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান হন। যাতে তাঁর রান ছিল ১১৫ এবং ১৪১ যথাক্রমে। এই টেস্ট ম্যাচটি ছিল এডিলেড স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেটে মোট ৭টি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন, যা একজন ভারতীয় অধিনায়কের মধ্যে সর্বাধিক। কোহলির একজন ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক রূপে এক ইনিংসে সর্বাধিক রান এর রেকর্ড ও রয়েছে যা ২৫৪ নট আউট।
তাঁর অধিনায়কত্বে ভারত ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ICC টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ওপরের স্থানে ছিল এবং ২০২১ সালের প্রথম ICC World Test Championship ফাইনালে পৌঁছেছিল। কোহলির নেতৃত্বে ভারত টানা ৯টি টেস্ট সিরিজে জয় লাভ করেন এবং রিকি পন্টিংয়ের রেকর্ড সমান করেন। একজন ভারত অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলির সব থেকে বেশি সেঞ্চুরি রয়েছে যা হলো ২০টি। সমস্ত দেশের মধ্যে কেবলমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ এর বেশি রয়েছে, ২৫টি সেঞ্চুরি।
বিরাট কোহলি আইপিএল ২০২৫ শুরুর আগে এক পডকাস্ট এ জানিয়ে ছিলেন, যেদিন তিনি ওই খিদেটা আর অনুভব করবেন না সেদিন তিনি নিজেই সরে দাঁড়াবেন, এছাড়াও তিনি আরও বলেছেন গত অস্ট্রেলিয়া সফরে নিজের খারাপ পারফরমেন্স এর জন্য তিনি খুব দুঃখিত বোধ করেছেন। হতে পারে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির রিটায়ারমেন্ট এর পেছনে এগুলিও কিছু কারণ। কিংবা থাকতেই পারে বিশেষ কোনো ব্যক্তির বড় চক্রান্ত। সবটাই দর্শক মহলে ধোঁয়াশা মাত্র।
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। আমার নাম শুভম বিশ্বাস। আমি গত ৫-৬ বছর ধরে ব্লগিং করছি। এই ব্লগটা শুরু করেছি বাংলায় ক্রিকেট খবর এবং আইপিএল নিয়ে লেখার জন্য। ক্রিকেট আমার ছোটবেলা থেকেই একটা ভালোলাগার জায়গা তাই সেই ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে এই নতুন উদ্যোগ।