মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী | MS Dhoni Biography in Bengali

ক্রিকেটের দুনিয়ায় ভারতবর্ষকে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে প্রকাশ করতে যে সব বাক্তিরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে এক উল্লেখ যোগ্য এবং সর্ব পরিচিত নাম হল মহেন্দ্র সিং ধোনি। ১৩০ কোটির এই ভারতবর্ষে মহেন্দ্র সিং ধোনি এর নাম জানেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।  

২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টোয়েন্টি২০, ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের মত বড় বড় ক্রিকেট অনুষ্ঠান গুলির সাথে যে নাম জড়িয়ে আছে তিনি হলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান রাজীব গান্ধী খেলরত্ন ও দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত তিনি।

অধিনায়ক হিসাবে অন্যান্য ক্রিকেটার দের থেকে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি। কিন্তু, মহেন্দ্র সিং ধোনি-এর ক্রিকেট জীবন একদমই সমান ও সোজা ছিল না, তাঁর জীবনে এসেছে অনেক চরাই উতারাই। সব ঝর সামলে আজ তিনি ভারতবর্ষের সবার প্রিয় ক্রিকেটার হওয়ে উঠেছেন। চলুন আজ এই বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি-এর জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

আরো পড়ুন : সাই সুদর্শন জীবনী

Table of Contents

জন্ম ও শৈশব

মহেন্দ্র সিং ধোনি ৭ই জুলাই ১৯৮১ সালে ভারতবর্ষের বিহারের রাঁচিতে (বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে) এক অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা পান সিং ও মাতা দেবকী দেবী -র কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন ধোনি। বড় দাদা নরেন্দ্র সিং ও দিদি জয়ন্তী দেবীই ছিলেন তার প্রথম ক্রীড়া জীবনের সঙ্গী। ধোনি ডিএভি জহর বিদ্যা মন্দির, শ্যামলী (বর্তমান জেভিএম, শ্যামলী, রাঁচি)-তে পড়াশোনা করেছেন।

সেখানেই তিনি ব্যাডমিন্টন এবং ফুটবলে অংশ নেন এবং জেলা ও ক্লাবপর্যায়ের খেলাগুলোয় অংশগ্রহণ ও করতে থাকেন। ফুটবল খেলায় তিনি গোলরক্ষক হিসাবে খেলতেন। তিনি ফুটবলের কোচিং ও নিয়েছিলেন কিছুদিন। পরে তাঁর ফুটবলের কোচ তাঁকে ক্রিকেট খেলার পরামর্শ দেন। উইকেট রক্ষায় তাঁর অসামান্য দক্ষতা ছিল। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর ক্রিকেটে অসাধারন দক্ষতার জন্য “ভিনু মানকড় ট্রফি” জয় করেন। 

আরো পড়ুন : শচীন তেন্ডুলকর জীবনী 

মহেন্দ্র সিং ধোনির বয়স

এমএস ধোনির জন্ম ৭ জুলাই, ১৯৮১ সালে। ৩১ মে, ২০২৫ তারিখে, তাঁর বয়স ৪৩ বছর।

ঘরোয়া ক্রিকেট জীবন

দশম শ্রেণির পর থেকেই মহেন্দ্র সিং ধোনি ক্রিকেটে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে ডুবিয়ে দেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে বিহার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে তিনি যুক্ত হন, এই ম্যাচে তিনি ভালো খেলেন কিন্তু তাঁর দল ফিনালে তে জেতে পারেনি। এরপর তিনি ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বিহার ক্রিকেট দলের পক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে নিজেকে অভিষিক্ত করেন। বেঙ্গল ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ২০০০-০১ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেন।

২০০২-০৩ মৌসুমে রঞ্জি ট্রফি ও দেওধর ট্রফিতে ভালো পারফরমেন্স এর জন্য তিনি ক্রিকেট মহলে বিশেষ আলোচিত হতে থাকেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে রঞ্জি ওডিআই ট্রফিতে তিনি আসামের বিপক্ষে প্রথম খেলায় অপরাজিত ১২৮ রান করেন। এর পরের দেওধর ট্রফিতে ইস্ট জোন ক্রিকেট দলেকে জেতাতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। 

এরপর তিনি ২০০৩-০৪ মৌসুমে ভারতীয় এ-দলের পক্ষ হয়ে জিম্বাবুয়ে এবং কেনিয়া সফর করেন। প্রত্যেকটা ম্যাচেই তিনি খুব ভালো খেলেন এবং তৎকালীন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী এবং রবি শাস্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্ত দুর্ভাগ্য বসত কোচের সুপারিসে সেই সময় দীনেশ কার্তিককে ভারতীয় দলে উইকেট-রক্ষক কাম ব্যাটসম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

আরো পড়ুন : ইংল্যান্ড বনাম ভারত টেস্ট স্কোয়াড এর সম্পূর্ণ তথ্য

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়

২৩শে ডিসেম্বর ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি প্রথম একদিনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। যদিও অভিষেক ম্যাচে তাঁকে শূন্য রানে রান আউট হয়ে ফিরতে হয়। তিনি ২ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর প্রিয় তারকা খেলোয়াড় অ্যাডাম গিলক্রিস্টের আন্তর্জাতিক রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েন। ইংল্যান্ডের ৫ জন খেলোয়াড়ের ক্যাচ এবং একটি স্ট্যাম্পিং করে এ নতুন রেকর্ডে নাম লেখান তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-২০ ট্রফির ফাইনালে তিনি পাকিস্থানকে পরাজিত করেন।  ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধোনি প্রথমবারের মতো উইকেট লাভ করেন। ২০০৯ সালের বেশ কয়েক মাস তিনি আইসিসি’র একদিনের ব্যাটসম্যানদের রেটিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেট অধ্যায়

মহেন্দ্র সিং ধোনি তাঁর জীবনের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি খেলেন ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই ম্যাচে তিনি খুব একটা ভালো খেলতে পারেননি। এরপর তাঁর দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে তিনি দ্রুত অর্ধ শত রান করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কার সামনে ৪৩৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেন, শ্রীলঙ্কা ২৪৭ রানে অল-আউট হয়ে ম্যাচটি হেরে যায়।

২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত ২য় টেস্টে মহেন্দ্র সিং ধোনি তাঁর প্রথম শত-রান লাভ করেন। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি দু’টি সেঞ্চুরি করেন এবং ৩ ম্যাচের সিরিজে ভারতীয় দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়লাভ করে। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অসাধারন পারফরমেন্স এর জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দল প্রথম বার আইসিসি ক্রিকেট রেটিংয়ে প্রথম স্থান দখল করে। 

আরো পড়ুন : বিরাট কোহলি জীবনী

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ অধ্যায়

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম ম্যাচের নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ধোনিকে কিনে নেয়। নিলামে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। প্রথম আইপিএলে ধোনি ৪১৪ রান করে সিএসকে ফাইনালে নিয়ে যান।

তাঁর অধিনায়কত্বে, সিএসকে ২০১০ সালের সংস্করণ জিতে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। ২০১১ সালে সিএসকেকে টানা দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা এনে দেন তিনি। ২০১৪ সালে ধোনি সিএসকেকে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি শিরোপা এনে দেন।

চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসের দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার পর, পুনে সুপারজায়ান্টস ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে তাদের পাঁচটি ড্রাফট বাছাইয়ের মধ্যে ধোনিকে মার্কিন ডলার ১.৫ মিলিয়ন মূল্যে বেছে নেয়। সুপারজায়ান্টসের হয়ে দুই মৌসুমে ৩০টি ম্যাচে তিনি ৫৭৪ রান করেন।

২০১৮ মৌসুমে ধোনি সিএসকেতে আবারও ফিরে আসেন। তিনি ৪৫৫ রান করেন এবং তার দলকে তৃতীয় আইপিএল শিরোপা এনে দেন। ২০২১ সালে ধোনি সিএসকে আবার শিরোপা এনে দেন এবং ২০২২ মৌসুমের নিলামের আগে তাকে ₹১২ কোটি মূল্যে ধরে রাখা হয়। ধোনি সেই মৌসুমের আগে অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করেন এবং রবীন্দ্র জাদেজাকে নতুন অধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়।

তবে, এক মাস পরে, জাদেজা মরশুমের মাঝামাঝি সময়ে ধোনির হাতে অধিনায়কত্ব ফিরিয়ে দেন। ধোনি পরের মরশুমে আবার ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জয় এনে দেন। তাঁর অধিনায়কত্বে, সিএসকে পাঁচটি শিরোপা জয় এবং দশটি ফাইনালে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিএলের সবচেয়ে সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে ওঠে।

ধোনি সিএসকের হয়ে ২০০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার প্রথম খেলোয়াড় হন এবং আইপিএলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও করেন। ২০২৪ মরশুমের আগে, ধোনি ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের কাছে অধিনায়কত্ব হস্তান্তর করেন। বর্তমানে তিনি এখনও সিএসকের হয়ে খেলছেন। 

আরো পড়ুন :  রোহিত শর্মা জীবনী

অধিনায়কত্ব

সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে আইসিসি বিশ্বকাপ টি20 ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, তাঁর যথাযোগ্য নেতৃত্বে ওই সিরিজের ফাইনালে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান দলকে পরাজিত করে ভারত প্রথম টি20 বিশ্বকাপ জয়ী দলের মর্যাদা লাভ করে। ওই বছরই তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া সফরে অধিনায়কের দায়িত্ত পান তিনি।

নভেম্বর ২০০৮ সালে ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব-এর সুযোগ পান তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই দীর্ঘ ২০ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে সক্ষম হয়েছে। আস্তে আস্তে তিনি সমস্ত ক্রিকেট ফরম্যাটে ভালো পারফরমান্স এবং ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের এক অনন্য সাফল্যের অধিকারী। সৌরভ গাঙ্গুলী সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে ধোনিকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেন।

২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়

২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ে ভারতীয় দলের নানান সদস্যের মধ্যে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভূমিকা ছিল উল্লেখ যোগ্য। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে ২৭৪ রানের টার্গেট পূরণ করার জন্য তিনি শেষ মুহূর্তে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করেন।

তিনি যখন ব্যাটিং করতে নামেন তখন ভারতীয় দলের ওভারপিছু ৬ রানের দরকার ছিল। গৌতম গম্ভীরের সাথে তিনি শক্ত জুটি বাঁধেন এবং আস্তে আস্তে ভারতের মোট রান বাড়াতে থাকেন। শেষ পর্যায়ে ধোনি নুয়ান কুলাসেকারা’র বলে ডিপ লং অঞ্চল দিয়ে ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এটি ভারতীয় ক্রিকেট দলের কাছে একটি ঐতিহাসিক জয় ছিল। 

আরো পড়ুন : IPL 2025 এই প্লেয়ারদের পারফরম্যান্স সকলের নজর কেড়েছে

টেস্ট থেকে অবসর

মহেন্দ্র সিং ধোনি ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করেন।  ২০১৪-১৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি তার শেষ টেস্ট সিরিজে অংশ নেন। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টের পর তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে আসার ঘোষণা করেন। এই সিরিজে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে তিনি অধিনায়কত্ব ও করেন। 

টি২০ ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর

মহেন্দ্র সিং ধোনির টি২০ ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া নিয়ে অনেক দিন ধরে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৫ আগস্ট, ২০২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন। ইনস্টাগ্রাম নামক সমাজ মাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘোষণা করেন। ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসটিই হয়ে রইলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধোনির সর্বশেষ ইনিংস।

মহেন্দ্র সিং ধোনির খেলার ধরন

মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারতীয় ক্রিকেট দলে ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষকের ভূমিকা পালন করতেন। ধোনি সাধারণত ব্যাক ফুটে গিয়ে ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন। তিনি খুব দ্রুতগতিতে বলকে ব্যাটে স্পর্শ করে মাঠের বাইরে নিয়ে চার অথবা ছয় রান করেন। বলকে নিপুণভাবে মাঠের বাইরে মারার ফলে ধোনির শটগুলো ভক্তদের কাছে  হেলিকপ্টারশট নামে পরিচিতি পায়।

মহেন্দ্র সিং ধোনির মোট সেঞ্চুরি

ধোনির মোট সেঞ্চুরি (আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার): ১৬ 

ওয়ানডে: ১০ সেঞ্চুরি

টেস্ট: ৬ সেঞ্চুরি

টি-টোয়েন্টি: ০ সেঞ্চুরি

মোটঃ ১৬টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি।

আইপিএল সেঞ্চুরি: ০ সেঞ্চুরি (সর্বোচ্চ স্কোর: ৮৪, ২৪টি অর্ধ-শতক)

মহেন্দ্র সিং ধোনি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড

অধিনায়কত্বের রেকর্ড

১.ইতিহাসের একমাত্র অধিনায়ক যিনি তিনটি আইসিসি ট্রফিই জিতেছেন: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (২০০৭), আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ (২০১১), আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (২০১৩)

২.অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন – ৩৩২টি ম্যাচ।

৩. ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে ১ নম্বরে নিয়ে গেছেন।

উইকেটরক্ষক রেকর্ড

১.আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক স্ট্যাম্পিং– ১৯৫টি স্ট্যাম্পিং

২.ওয়ানডেতে উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ খেলেছেন – ৩৫০টি ওয়ানডে।

৩.এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে দ্রুততম স্ট্যাম্পিং – ০.০৮ সেকেন্ডে কিমো পলের বিপক্ষে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৮)।

ব্যাটিং রেকর্ড

১.১০টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি এবং ৬টি টেস্ট সেঞ্চুরি – মোট ১৬টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি।

২. টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র অধিনায়ক-উইকেটরক্ষক – ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৪।

৩. ওয়ানডেতে উইকেটরক্ষকের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর – শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮৩, ২০০৫ সালে।

৪. প্রথম ভারতীয় উইকেটরক্ষক যিনি ৪,০০০ টেস্ট রান অতিক্রম করেছেন।

আইপিএল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে রেকর্ড 

১ চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) কে ৫টি আইপিএল শিরোপা এনে দিয়েছেন – ২০১০, ২০১১, ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৩।

২. আইপিএলে অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ – ২৩০টিরও বেশি ম্যাচ।

৩. ১০ বা তার বেশি আইপিএল ফাইনালে অধিনায়কত্ব করা একমাত্র খেলোয়াড়।

৪. আইপিএলে ৫,৪০০+ রান করেছেন, গড়ে ৩৮ এর বেশি, যদিও নিচের ক্রমে ব্যাট করছেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রাপ্ত বিশেষ পুরস্কার:

বেসামরিক পুরষ্কার

  • পদ্মভূষণ (২০১৮) – ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার।
  • পদ্মশ্রী (২০০৯) – ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার।

ক্রীড়া পুরষ্কার

রাজীব গান্ধী খেল রত্ন (২০০৭) – ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান।

সামরিক সম্মান

সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেল – ভারতীয় টেরিটোরিয়াল আর্মি কর্তৃক প্রদত্ত (২০১১)।

আইসিসি এবং আন্তর্জাতিক পুরষ্কার

  • আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড় – ২০০৮, ২০০৯
  • আইসিসি স্পিরিট অফ ক্রিকেট পুরষ্কার – ২০১১
  • আইসিসি বিশ্ব একাদশে নাম (ওডিআই/টেস্ট) – বহু বছর
  • এলজি পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড – ২০১৩

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আসা – ২০১১

বাক্তিগত জীবন

মহেন্দ্র সিং ধোনি, সাক্ষী সিং রাওয়াতকে নিজের স্ত্রী রুপে গ্রহণ করেন। বাগদানের ঠিক একদিন পর, ৪ জুলাই, ২০১০ তারিখে দেরাদুনে এক নীরবে এবং একান্ত অনুষ্ঠানে এই দম্পতি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। অনুষ্ঠানের আগে পর্যন্ত খবরটি গোপন রাখা হয়েছিল। সাক্ষী হোটেল ব্যবস্থাপনায় ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বিয়ের আগে আতিথেয়তা শিল্পে কাজ করেছিলেন।

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ তারিখে, এই দম্পতি তাদের মেয়ে জিভা ধোনিকে স্বাগত জানান, যিনি তখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন হয়ে উঠেছেন। সাক্ষীকে প্রায়শই ধোনির আইপিএল এবং অন্যান্য ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নিতে দেখা যায়। ধোনির পরিবার তাদের গোপনীয়তা, ঘনিষ্ঠ বন্ধন এবং দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধের জন্য সবার কাছে প্রশংসিত।

আর্থিক প্রতিপত্তি ও বিনিয়োগ

এমএস ধোনির আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ₹১,০৬০ কোটি টাকা (প্রায় ১২৭ মিলিয়ন ডলার) যা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার, লাভজনক ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং তার লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড সেভেন এবং চেন্নাইয়িন এফসির সহ-মালিকানার মতো বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের সমন্বয়ে অর্জিত হয়েছে। তিনি স্টার্টআপ এবং রিয়েল এস্টেটে কৌশলগত বিনিয়োগও করেছেন।

ধোনির রাঁচিতে ৭ একরের একটি বিলাসবহুল ফার্মহাউস, মুম্বাইতে একটি সমুদ্রমুখী অ্যাপার্টমেন্ট এবং দেরাদুনে প্রায় ১৭.৮ কোটি টাকার একটি উচ্চমূল্যের সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়াও, তার কাছে ফেরারি, রোলস রয়েস, হামার এবং মার্সিডিজ সহ বিলাসবহুল যানবাহনের একটি চিত্তাকর্ষক সংগ্রহ রয়েছে, যা অটোমোবাইলের প্রতি তার আগ্রহকে প্রতিফলিত করে। সামগ্রিকভাবে, তার সম্পদ ক্রিকেট মাঠে এবং একজন স্মার্ট উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী উভয় ক্ষেত্রেই তার সাফল্যকে প্রতিফলিত করে।

মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য বিতর্ক

ধোনি তার শান্ত আচরণ এবং ক্রীড়ানুরাগী মনোভাবের জন্য ব্যাপকভাবে সমাদৃত, কিন্তু অনেক জনসাধারণের মতো, তিনি তার ক্যারিয়ারে কয়েকটি বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। এখানে কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় রয়েছে:

১। ২০১৩ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) স্পট-ফিক্সিং তদন্ত:

কিছু খেলোয়াড় এবং দলের কর্মকর্তাদের সাথে জড়িত স্পট-ফিক্সিং এবং বাজি কেলেঙ্কারির তদন্তের সময় ধোনিকে মুম্বাই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে, তাকে কোনও অন্যায় কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

২। ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে রান-আউটের ঘটনা:

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালের সময়, ধোনি ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ইয়ান বেলের বিতর্কিত রান-আউটের সাথে জড়িত ছিলেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর ধোনি বেলকে প্রত্যাহার করেন, যা ক্রীড়ানুরাগী মনোভাবের একটি কাজ হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল কিন্তু সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

৩। অধিনায়কত্ব সমালোচনা:

বিভিন্ন সময়ে, ধোনির অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত, যেমন দল নির্বাচন বা ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন, মিডিয়া এবং ভক্তদের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, বিশেষ করে সেই সময়কালে যখন ভারতীয় দল নির্দিষ্ট ফর্ম্যাটে লড়াই করেছিল।

F.A.Q: মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী

১। মহেন্দ্র সিং ধোনী কে?

মহেন্দ্র সিং ধোনী একজন ভারতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড়। তিনি একজন ডান হাতি ব্যাটসম্যান এবং উইকেটরক্ষক। 

২। মহেন্দ্র সিং ধোনীর জন্ম কোথায় হয়?

মহেন্দ্র সিং ধোনীর জন্ম হয় ৭ জুলাই ১৯৮১ সালে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি এলাকায়।

৩। মহেন্দ্র সিং ধোনীর পিতার নাম কী?

মহেন্দ্র সিং ধোনীর পিতার নাম পান সিং।

৪। মহেন্দ্র সিং ধোনীর সেঞ্চুরি সংখ্যা কত?

এখনও পর্যন্ত মহেন্দ্র সিং ধোনীর সেঞ্চুরি সংখ্যা ১৬।

৫। মহেন্দ্র সিং ধোনী কত বার আইপিএল জিতেছেন?

চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) কে তিনি ৫টি আইপিএল শিরোপা এনে দিয়েছেন – ২০১০, ২০১১, ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৩।

৬। মহেন্দ্র সিং ধোনী কবে আইপিএল থেকে অবসর নেবেন?

মহেন্দ্র সিং ধোনী এখনও পর্যন্ত আইপিএল থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেননি। তিনি বর্তমানে চেন্নাই সুপার কিংস এর হয়ে খেলছেন।  

৭। মহেন্দ্র সিং ধোনীর উচ্চতা কত?

মহেন্দ্র সিং ধোনীর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১৭৫ সেমি)।

Leave a Comment