এবছরের মতন চেন্নাই সুপার কিংস এর যাত্রা শেষ হলো। ১৪টি ম্যাচ খেলে সিএসকে পয়েন্টস টেবিলের একদম নিচে স্থান পেয়েছে। যদিও শেষের ম্যাচে চেন্নাই নিজেদের চেনা ছন্দেই ধরা দিয়েছে। ধোনি এবং হুড্ডা কে ছাড়াই চেন্নাই ২৩০ রান এর বিরাট লক্ষ্য স্থির করে দেয়। ৫ উইকেটের পতনের পর ২০ ওভার শেষে চেন্নাই এর রান গিয়ে দাঁড়ায় ২৩০। এই রান তারা করতে গিয়ে গুজরাট টাইটান্স কিছুটা থমকে যায়।
এদিনের এই ম্যাচে চেন্নাইকে বিরোধী সমস্ত দল যারা প্লেঅফ এ জায়গা পেয়েছে, তারা এবং তাদের ভক্তরা সমর্থন করছিলো। কারণ এবারের পয়েন্টস টেবিল এমন এক জায়গায় গিয়েছে যেখানে প্লেঅফে পৌঁছানো চারটি টীম এর কাছেই রয়েছে পয়েন্টস টেবিল এর এক কিংবা দুই নাম্বার স্থানে জায়গা করে নেওয়ার। এখন দেখার কে কোন জায়গায় শেষ পর্যন্ত জায়গা পায়।
চেন্নাই সুপার কিংস শেষবার আইপিএল বিজেতা হয়েছিল ২০২৩ সালে। তখন দলের অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। সেবারের পরের বার থেকেই নতুন অধিনায়ক রুতুরাজ গাইকওয়াড এর নেতৃত্বেই ধোনি এবং দলের বাকি সদস্য খেলতে দেখা যায়। রুতুরাজ অধিনায়ক হিসেবে খারাপ না হলেও, দল চেনা ছন্দে এবং আধুনিক টি২০ ক্রিকেটের মতন খেলতে ব্যর্থ হয়। ২০২৪ আইপিএল এ চেন্নাই সুপার কিংস যদিও বা কিছুটা ভালো খেলেছিল, ২০২৫ আইপিএল এ চেন্নাই সুপার কিংস এর অবস্থা খুবই খারাপ। যা সিএসকে ফ্যানস দের কাছে খুবই কষ্টের। এমন অবস্থায় অধিনায়ক রুতুরাজ চোট পান এবং নেতৃত্বে ফেরেন আবার সেই ধোনি।
যদিও ধোনি ফেরার পর দল ভালো খেলবে এমনটা আশা করা হলেও, তা হয়নি। অবশ্য এখানে ধোনিরও কিছু করার নেই। দলের বাকি সদস্য ভালো না খেললে একা অধিনায়ক কি বা করতে পারেন? সিএসকে বুঝতে পারে, এবারের আইপিএল জেতা অনেক দূরের কথা, প্লেঅফ এ জায়গা পাওয়াটাও আর তাদের নিজেদের হাতে নেই।
আইপিএল ২০২৫ মেগা অকশন এর সময় যে খেলোয়াড় দের কে দল চড়া দামে কিনে ভরসা দেখিয়েছিলো, তারা কেও ভালো খেলতে পারেনি। রাহুল ত্রিপাঠি, দীপক হুড্ডা, বিজয় শঙ্কর, খলীল আহমেদ, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রাচীন রবীন্দ্র, ডেভন কনওয়ে কিংবা রুতুরাজ গাইকওয়াড কেও না। তাই দল চেষ্টা করতে কিছু প্লেয়ার কে শেষ সুযোগ দিয়ে বাকি প্লেয়ার বা চোট পাওয়া খেলোয়াড় দের জায়গায় একে একে পরিবর্ত খেলোয়াড় নিয়ে আসতে। এটা কিছুটা পরিকল্পনামাফিক ও ধরা চলে।
দল বুঝতে পারে অন্যদলের মতন ভালো খেলতে হলে, তাদের বিপক্ষে খেলে জিততে হলে নতুন এবং ছন্দে থাকা আধুনিক খেলোয়াড় দের প্রতি বেশি ভরসা দেখতে হবে। তাই সিএসকে দলে নিয়ে আসে কিছু প্লেয়ারের পরিবর্তে আয়ুষ মাহাত্ৰে, উরভিল প্যাটেল, দেওয়াল্ড ব্রেভিস এর মতন কিছু নাম। সৌভাগ্যবশত এই তিন খেলোয়াড় সিএসকে দলের হয়ে আসার আলো দেখিয়েছেন। এবং দল আগামী বছরের জন্য চিন্তা ভাবনা এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন।
বরাবরের মতন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি রিটায়ারমেন্ট এর কথা না জানালেও, আগামী মরসুমেও যে তিনি খেলবেন এটুকু স্পষ্ট। তবে অধিনায়ক তিনিই থাকবেন নাকি ফেরানো হবে রুতুরাজ গাইকওয়াড কে, এ খবর নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, এবং সিএসকে আগামী আইপিএল মিনি অকশন এ খুব বিস্ফোটক কোনো খেলোয়াড় না নিলে, দল কিছুটা এরকমটা দেখতে লাগতে পারে।
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক আগামী মরসুমের সিএসকে একাদশ,
আয়ুষ মাহাত্ৰে, ডেভন কনওয়ে, রুতুরাজ গাইকওয়াড (অধিনায়ক), উরভিল প্যাটেল, শিভম দুবে, দেওয়াল্ড ব্রেভিস, রবীন্দ্র জাদেজা, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (উইকেট-কীপার), অনসুল কাম্বোজ, নূর আহমেদ, খলীল আহমেদ, মাথীসা পাথিরানা (ইমপ্যাক্ট-সাব).
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। আমার নাম শুভম বিশ্বাস। আমি গত ৫-৬ বছর ধরে ব্লগিং করছি। এই ব্লগটা শুরু করেছি বাংলায় ক্রিকেট খবর এবং আইপিএল নিয়ে লেখার জন্য। ক্রিকেট আমার ছোটবেলা থেকেই একটা ভালোলাগার জায়গা তাই সেই ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে এই নতুন উদ্যোগ।