অবশেষে আমরা দেখতে চলেছি এমন দুটো টীম এর মধ্যে আইপিএল ফাইনাল যারা এর আগে কখনো আইপিএল জেতেনি। RCB এবং PBKS দুটো দলই আইপিএল এর শুরুর সময় থেকেই আছে কিন্তু এই ১৮ বছরে একটিবারের জন্যেও আইপিএল জিততে পারেনি। যেখানে RCB এর আগে মোট তিনবার আইপিএল ফাইনাল খেলেছে কিন্তু অন্যদিকে PBKS এর আগে খেলেছে একটি মাত্র আইপিএল ফাইনাল।
RCB এর আগে ২০০৯, ২০১১ এবং ২০১৬ ফাইনাল খেলে রানার্স আপ দল হিসেবে থেকে গেছে। অন্যদিকে PBKS খেলছে কেবল ২০১৪ এর আইপিএল ফাইনাল। সেসব ঘটনা এখন অতীত। কারণ আইপিএল এ দলের নাম, দলের মালিক একই থাকলেও, দল বছর বছর পাল্টাতেই থাকে। এবছর RCB এবং PBKS দুই দলই নতুন অধিনায়ক এর নেতৃত্বে খেলে ফাইনালে উঠেছে। যদিও PBKS এর অধিনায়ক এর অভিজ্ঞতা RCB এর অধিনায়ক এর থেকে বেশি।
পাঞ্জাব কিংস দলের এবারের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ের। অন্যদিকে রয়াল চ্যালেঙ্গার ব্যাঙ্গালুরু দলের অধিনায়ক রজত পাটিদার। শ্রেয়াস এর আগে দিল্লী ক্যাপিটালস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স কে আইপিএল ফাইনালে নিয়ে গেছেন এবং প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি দলকে আইপিএল ফাইনালে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে গতবার অর্থাৎ আইপিএল ২০২৪ এ KKR কে চ্যাম্পিয়ন ও করে তোলে এই শ্রেয়াস আইয়ের। যদিও RCBর অধিনায়ক রজত পাতিদার এর আইপিএল অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা না থাকলেও, তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক অধিনায়কত্ব সামলেছেন।

RCB কোয়ালিফায়ার ১ এই PBKS কে পরাজিত করে সরাসরি আইপিএল ফাইনালে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে PBKS এর কাছে ছিল একটি সুযোগ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কে হারিয়ে আইপিএল ফাইনালে RCBর মোকাবিলা করার। গতকাল অর্থাৎ পয়লা জুন ছিল আহমেদাবাদে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম পাঞ্জাব কিংস এর ম্যাচ। এই ম্যাচে কেও বলছিলো MI জিতবে তো কিছু মানুষ বলছিলো PBKS জিতবে।
এদিন বৃষ্টির কারণে ম্যাচ অনেকটা দেরিতে শুরু হয়। কিন্তু কোনো ওভার নষ্ট হয়নি। টসে জিতে PBKS এর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ের বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কে ব্যাটিং করতে আহ্বান জানান। মুম্বাই এদিন ২০৩/৬ রান করেন ২০ ওভার শেষে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এদিন সব থেকে বেশি রান তোলেন জনি ব্যারিস্ট, সূর্যকুমার যাদব, নামান ধীর এবং তিলক ভার্মা। পাঞ্জাব কিংস এর বোলারদের মধ্যে অর্শদীপ সিংহ ছাড়া সবাই একটি, দুটি করার উইকেট পেয়ে থাকলেও খুব বেশি সফল কেও হননি।
এই রান তারা করতে এসে পাঞ্জাব কিংস এক ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেই। PBKS অধিনায়ক এদিন ম্যান অফ দা ম্যাচ হন এবং সব থেকে বেশি রান করেন। শ্রেয়াস আইয়ের এদিন ৫টি চার এবং ৮টি ছক্কার সাহায্যে ৪১ বলে অপরাজিত ৮৭ রান করেন। এছাড়াও প্রিয়ান্স আর্য, জোশ ইংলিশ এবং নেহাল ওয়াধেরা নিজেদের মতন এই রান তাড়াতে অধিনায়কের সাথে থাকেন। মুম্বাইয়ের বোলাররা এদিন খুব একটা ভালো বল করতে পারেন নি। তবে অশ্বনি কুমার, হার্দিক পাণ্ড্য এবং ট্রেন্ট বোল্ট উইকেট পেতে সক্ষম হন। অবশেষে এই ম্যাচ পাঞ্জাব কিংস জিতে RCBর সাথে ফাইনাল খেলার জন্য যোগ্য হয়ে ওঠে।

RCB বনাম PBKS এর মুখোমুখি পরিসংখ্যান আমরা যদি এক ঝলকে দেখি তবে দেখাবে যাবে এই দুই দল ৩৬ বার আইপিএল ইতিহাসে সামনাসামনি হয়েছে যার মধ্যে দুই দলই ১৮টি করে ম্যাচ জিতেছে। তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো এবছর যেহেতু আইপিএল দল নতুন, অধিনায়ক নতুন তাই এবারের পরিসংখ্যান ভালো করে দেখলে দেখা যাবে, এবারের হওয়া এই দুই দলের মধ্যে তিনটি ম্যাচের মধ্যে RCB জিতেছে দুটি এবং PBKS জিতেছে একটি।
এবছরের হওয়া তিনটি ম্যাচের মধ্যে প্রথম ম্যাচটি PBKS ৫ উইকেটে জিতে নিলেও, পরের দুটি ম্যাচ RCB যথাক্রমে ৭ উইকেট এবং ৮ উইকেটে জিতে নেই। এখন দেখার বাকি ফাইনাল ম্যাচে RCB এবং PBKS এর মধ্যে কোন দল জয়লাভ করে এবং কে হয় ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।
আমি চেয়েছিলাম এবারের আইপিএল যেই জিতুক, যেন জিতুক একটি নতুন দল। এবং তেমনটাই হবে। আপনি কি চান এবার কোন দল জিতুক? আমাদের লেখা আর্টিকেল আপনার কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না। এরকম আর্টিকেল আরও পড়তে আমাদের পেজ ফলো করতে পারেন।
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। আমার নাম শুভম বিশ্বাস। আমি গত ৫-৬ বছর ধরে ব্লগিং করছি। এই ব্লগটা শুরু করেছি বাংলায় ক্রিকেট খবর এবং আইপিএল নিয়ে লেখার জন্য। ক্রিকেট আমার ছোটবেলা থেকেই একটা ভালোলাগার জায়গা তাই সেই ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে এই নতুন উদ্যোগ।