Earn ₹10000 Through Blogging: ব্লগিং দিয়ে কি সত্যি টাকা রোজগার করা যায়? অনেকেই ভাবে এটা মিথ্যে। আমি নিজেও একসময় এরকমটাই ভাবতাম, কিন্তু আজ আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করব – কীভাবে আমি আমার প্রথম ₹১০,০০০ ইনকাম করেছিলাম ব্লগিং থেকে। এবং আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আপনিও ব্লগিং থেকে নিজের প্রথম ১০০০০ টাকা রোজগার করতে পারবেন।
No big investment, no English fluency, no team.
Just smart work, patience, and strategy.
আমার ব্লগিং শুরুর গল্প (Blogging in Bengali)
সালটা ছিল ২০১৯, আমি তখন ইউটিউব, ফ্রীল্যানসিং, ক্যাশব্যাক অফার ইত্যাদি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ফ্রীল্যানসিং পারলাম না। ক্যাশব্যাক অফার কাজে লাগিয়ে এক দু হাজার মাসে রোজগার করতাম, আর কিভাবে করতাম সেইটা দেখিয়ে ইউটিউবে ভিডিও বানাতাম। দুবার পেমেন্ট ও পেলাম। কিন্তু দু চার জন ঠাট্টা করলো, বললো, আমার মুখটা দেখে কেও নাকি আমার ভিডিও দেখবে না। আমি ভীষণ ডেমোটিভেটেড হলাম এবং ইউটিউব করা ছেড়ে দিলাম।
এরই মাঝে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ভিডিও দেখতে দেখতে একদিন দেখে ফেলি SEO নিয়ে একটি ভিডিও। তারপর দেখি ব্লগিং নিয়ে একটি ভিডিও। মনে হলো, যেন ব্লগিং বিষয়টা ভগবান আমার জন্যই বানিয়েছে। আমাকে মুখ দেখাতে হবে না, অথচ আমি ইন্টারনেট থেকে নিজের জন্য কাজ করেই টাকা রোজগার করতে পারবো, নিজের বাড়িতে বসেই। ব্যাস, তারপর বেশি কিছু না ভেবে শুরু করে ফেললাম ব্লগিং। লিখতে লাগলাম রোজ একটার পর একটা আর্টিকেল, আর তারপর পেলাম অনেক কষ্টের পর নিজের প্রথম রোজগার, প্রায় ৪-৫ মাস পর ১২০০০ টাকা গুগল এডসেন্স থেকে। এই ছিল আমার গল্প।

যেভাবে ব্লগিং থেকে নিজের প্রথম ১০০০০ টাকা রোজগার করা যায়
আমি জানি, ১০০০০ বা ১২০০০ টাকা মাসে খুব বেশি টাকা নয়, কিন্তু আপনি যদি শুরুতেই মাসে লক্ষ টাকা রোজগারের স্বপ্ন দেখেন তাহলে হয়তো বা আপনার সেটা পূরণ হবে না। শুরুতে মাসে $১০০ বা ১০০০০ টাকা মতন থেকেই আপনাকে আপনার জার্নি শুরু করতে হবে। সবাই এমনটাই করে, আমিও করেছিলাম, আর আপনাকেও করতে হবে।
ব্লগিং শুরু করার জন্য যে টাকা লাগবেই এর কোনো মানে নেই। আপনি ফ্রি ব্লগার দিয়েও সমস্ত কিছু করতে পারবেন। এমনকি অনেকেই এরকমটা করেন। কিন্তু তবুও আমি বলবো, ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম ডোমেইন ও হোস্টিং কিনেই ব্লগিং শুরু করার কথা। আর আমি নিজেও. নিজের প্রথম ব্লগ ওয়ার্ডপ্রেস এই বানিয়েছি। তাতে সময় অনেক কম লাগে, আর্টিকেল বেশি ও সহজে লেখা যায় আর খুব স্বাভাবিকভাবেই রোজগারটাও তাড়াতাড়ি হবার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুন: এসইও কী
প্রিমিয়াম ডোমেইন ও হোস্টিং দিয়ে ব্লগিং
ডোমেইন, হোস্টিং নিয়ে যখন কথা উঠলোই, তখন বলে রাখি, আপনারা চাইলে HOSTINGER থেকে ডোমেইন হোস্টিং কিনতে পারেন। অনেক কম দামে সেখানে থেকে ডোমেইন ও হোস্টিং পেয়ে যাবেন। হোস্টিং একটু ভালো নিলে, HOSTINGER থেকে ডোমেইন ফ্রি তে পেয়ে যাবেন। এবং এর ফলে, আপনার কোনো ক্ষতি না করেই আমিও একটু এফিলিয়েট কমিশন পেয়ে যাবো। চাইলে একবার দেখে আসতেই পারেন, লিংক দেওয়া থাকলো।
আমি যখন ব্লগিং শুরু করেছিলাম, তখন বিষয়টা অনেক সহজ ছিল, আজকের তুলনায়। তাই আমি যখন যা লিখতাম সব rank করে যেত এবং রোজগার হতো। আপনাকে আমি সাজেস্ট করবো নির্দিষ্ট একটি নিচ বা টপিক এর ওপর কেন্দ্র করেই আর্টিকেল লিখুন। খুব ভালো হয় যদি মাইক্রো নিচ নিয়ে লিখতে পারেন। ছোট্ট করে উদাহরণ হিসেবে বলে রাখি, নিচ অর্থাৎ ফিনান্স এবং মাইক্রো নিচ অর্থাৎ মিউচুয়াল ফান্ড। আশা করি বুঝতে পারলেন।
যেভাবে ব্লগ লিখে ট্রাফিক আসে
এইভাবে নিয়মিত একটি মাইক্রো নিচ্ এর ওপর আর্টিকেল লিখে যেতে থাকলে আপনি দেখবেন বিভিন্ন মাধ্যম যেমন গুগল সার্চ, গুগল ডিসকভার, রেফারেল, ইত্যাদি মাধ্যম থেকে ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইটে আসছে। আপনি চেষ্টা করতে পারেন আরও বেশি ট্রাফিক আনার জন্য, শর্ট ভিডিও বা লং ভিডিও ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি তে বানিয়ে নিজের ব্লগকে প্রমোট করার। শুধু এই নয়, এরই সাথে নিজের ওয়েবসাইটের প্রতি আর্টিকেল এর জন্য চেষ্টা করতে হবে, বা অনিবার্য ভাবে করতেই হবে লিংকডইন , মিডিয়াম, quora, reddit ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট লিখে ট্রাফিক নিয়ে আসার। এছাড়াও আপনি ফেইসবুক, পিন্টারেস্ট ও টুইটার কেও কাজে লাগাতে পারেন।
ব্লগিং দেখতে ও শুনতে অনেক সহজ লাগলেও, কষ্টটা এখানে একটু বেশিই করতে হয়। অন্তন্ত শুরুর দিন গুলোতে।
ব্লগিং থেকে যেভাবে রোজগার করা যায়
এবার আসি রোজগার এর কথায়,
যখন আপনার ওয়েবসাইট এ কমপক্ষে ৪০টি আর্টিকেল যেগুলি গুছিয়ে এবং সঠিক ইনফরমেশন এর সাথে লেখা থাকবে, ওয়েবসাইট ভালোভাবে ডিসাইন করা থাকবে, বেসিক পেজ যেমন এবাউট উস, কন্টাক্ট us, ডিসক্লেইমার, প্রাইভেসী পলসি, টার্মস এন্ড কন্ডিশন ইত্যাদি থাকবে, তখন আপনি এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন।
একবার এডসেন্স পেয়ে গেলে, আপনার ব্লগের নিচ, কত ট্রাফিক আসছে, ট্রাফিক কোথায় থেকে আসছে ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে আপনি আপনার ব্লগ থেকে ;প্রথম $১০০ বা ₹১০০০০ টাকা রোজগার করতে পারবেন। সময় লাগবে। নিশ্চয় লাগবে। গুগল এডসেন্স থেকে, নতুন ব্লগ থেকে নিজের প্রথম ১০০০০ টাকা রোজগার চারটি খানি ব্যাপার নয়। আমার লেগেছিলো ৪ মাসের বেশি। আপনার হয়তো এরকমটাই লাগলো। কিন্তু ধীরে ধীরে লক্ষ্য করবেন, এই সময়ের ব্যবধান কমছে আর রোজগার বাড়ছে। যেমন দেখবেন দুমাসেই ১০০০০ রোজগার হয়ে গেল, বা কখনো দেখলেন এক মাসেই এক লক্ষ রোজগার হয়ে গেলো।
এগুলো কেন হবে জানেন? কারণ শুরুতে আপনার ওই ৪০-৫০ টি আর্টিকেলের মধ্যে ৩-৪ থেকেই রোজগার হবে। সব আর্টিকেল থেকে রোজগার কখনোই হবে না। কারণ সব আর্টিকেল rank করলেও ট্রাফিক আনবে না। আনলেও CPC কম থাকবে। এবং তারপর ৩-৪ মাস মিলিয়ে $১০০ জড়ো হবে আপনার একাউন্টে। যত বেশি আর্টিকেল হবে তত আপনার রোজগারের সম্ভাবনা বাড়বে। যখন ৩০০-৪০০টি আর্টিকেল হবে এবং ৩০-৪০ টি থেকে রোজগার হবে তখন দেখবেন মাসে $১০০০ বা তারও অনেক বেশি রোজগার হচ্ছে। এরকমটাই হয়। আপনার বলে নয়, সবার। এমনকি আমারও।
এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং এডসেন্স থেকে রোজগার করার উপায়
বোনাস টিপ্- আপনি আপনার ব্লগের নিচ এবং আর্টিকেল অনুযায়ী এফিলিয়েট প্রোগ্রাম জয়েন করে, নিজের প্রথম $১০০ বা ১০০০০ টাকা যেটাই ভাবুন না কেন, অনেক অল্প সময়ে করে ফেলতে পারবেন।
আমার ব্লগের মাধ্যমে গুগল এডসেন্স থেকে ১২০০০ টাকা প্রথম রোজগার এসেছিলো ৩-৪ মাস মিলিয়ে। তার অনেক গল্প, সে নাহয় অন্য একদিন বলবো। কিন্তু ব্লগিং থেকে আমার প্রথম ১০০০০ টাকা রোজগার হয়েছিল এডসেন্স ও এফিলিয়েট মিলিয়ে প্রথম মাসেই। কারণ আমি ইউটিউব করার সময়তেই আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতাম, এবং একটু একটু অভিজ্ঞতা ছিল। তাই ব্লগ থেকে এডসেন্স এর ৪০০০ ও আমাজন এফিলিয়েট থেকে ৬০০০ মতন মিলিয়ে আমার প্রথম ১০০০০ রোজগার কিন্তু ব্লগিং শুরু করার ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই হয়ে গেছিলো। আপনিও কম সময়ে দ্রুত রোজগার করতে চাইলে এডসেন্স এর সাথে এফিলিয়েট টাও করুন।
তবে হ্যাঁ নির্দিষ্ট একটি নিচ এর বাইরে কনটেন্ট লিখতে যাবেন না। নইলে সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে।

ব্লগিং শুরু করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
- ব্লগিং শুরুর ক্ষেত্রে কিছু টিপস যা আপনি ফলো করতে পারেন
- ডোমেইন কেনার আগে ডোমেইন নাম ভেবে নিন
- একটি নিচ নিয়ে কাজ করুন
- প্রতিদিন আর্টিকেল লিখতে পারলে ভালো
- আর্টিকেল লো কম্পেটিশন কীওয়ার্ড নিয়েই লিখুন
- শুধু ট্রাফিক আনার পেছনে লক্ষ্য না রেখে, মানুষের বিশ্বাস অর্জন করুন
- পার্সনাল ব্র্যান্ড তৈরী করুন
- ব্লগিং এর সাথে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে কনটেন্ট বানান
- মানুষের কাজে দেবে এমন আর্টিকেল লিখুন যা বাকিরা কেও লেখেনি
- আর্টিকেল লেখার আগে সবার থেকে সেরা লেখার মানসিকতা নিয়ে লিখতে বসুন
- ভুলেও AI দ্বারা লেখা আর্টিকেল নিজের ব্লগে দেবেন না। নইলে সর্বনাশ।
আজকের আর্টিকেল এখানেই সমাপ্ত করলাম। কথা হবে অন্য আরেকদিন অন্য আরেক নতুন বিষয়ে। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ। জয় মা দুর্গা।
নমস্কার, প্রিয় পাঠকগণ। আমার নাম শুভম বিশ্বাস। আমি গত ৫-৬ বছর ধরে ব্লগিং করছি। এই ব্লগটা শুরু করেছি বাংলায় ক্রিকেট খবর এবং আইপিএল নিয়ে লেখার জন্য। ক্রিকেট আমার ছোটবেলা থেকেই একটা ভালোলাগার জায়গা তাই সেই ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে এই নতুন উদ্যোগ।